Skip to content

প্রতিশোধ নাকি পুনরাবৃত্তি

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ফুটবলে দু’দলের আলাদা ঐতিহ্য। দৃষ্টিনন্দন ফুটবলে সাম্বা ছন্দে পৃথিবী মাতাচ্ছে ব্রাজিল। আর দ্রুতগতির পাওয়ার ফুটবলে দর্শকদের চোখ টেনে রেখেছে জার্মানরাও। বিপরীতধর্মী ফুটবল দর্শন নিয়ে বিশ্বমঞ্চে অন্যতম সফল দুই দল ব্রাজিল ও জার্মানি। এ পর্যন্ত মোট আট বিশ্বকাপ শিরোপা রয়েছে এ দু’দলের ঝুলিতে। এতে দুই বার রানার্সআপ ও সর্বাধিক পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দল ব্রাজিল। আর চারবারের রানার্সআপ জার্মানি বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ নিয়েছে তিনবার। এতে শেষ ১৩ বিশ্বকাপ আসরে ১২ বার সেমিফাইনালে খেলার একমাত্র কৃতিত্ব জার্মানদের। তবে এবারের বিশ্বকাপ থেকে এর এক দলকে বিদায় নিতে হচ্ছে নির্ঘাত। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও তিনবারের শিরোপাজয়ী জার্মানি সেমিফাইনাল লড়াইয়ে নামছে আজ। বেলো হরিজোন্তের মিনেইরো স্টেডিয়ামের মাঠে এ লড়াই শুরু হবে রাত ২টায়। আর এতে জার্মানির সামনে প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ। ২০০২’র ফাইনালে কোচ স্কলারির ব্রাজিলের কাছে হার নিয়ে শিরোপাস্বপ্ন ভাঙে জার্মানদের। সেমিফাইনালে নামার আগে ব্রাজিলিয়ানরা কাটাতে চাইছে নেইমারকে হারানোর ধাক্কা। এতে বদলে যাচ্ছে ব্রাজিলের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারও। এই মুহূর্তে ব্রাজিলিয়ানদের মনোযোগটা ডেভিড লুইসের দিকে। থিয়াগো সিলভার নিষেধাজ্ঞায় আজ ব্রাজিল দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড শোভা পাবে লুইসের বাহুতে। ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন ব্রাজিলের সুপার তারকা নেইমার। তবে ভক্তদের আশা ডেভিড লুইসের অলরাউন্ড নৈপুণ্য বিশ্বকাপ এনে দেবে ব্রাজিলকে। ম্যাচ শুরুর আগে উচ্চস্বরে ডেভিড লুইসের জাতীয় সংগীত গাওয়ার ছবিটা মনে ধরেছে ব্রাজিলের মিডিয়ারও। এতে নেইমারের অনুপস্থিতিতে ইতিমধ্যে ব্রাজিলের বিজ্ঞাপনী দেয়ালগুলোয় উঠছে ডেভিড লুইসের ছবি। আর জার্মানিকে মোকাবিলার আগে আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন এ ডিফেন্স তারকা নিজেও। মাত্রই রেকর্ড ট্রান্সফারে ইংল্যান্ডের চেলসি ছেড়ে ফ্রান্সের প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) দলে নাম লিখেছেন ডেভিড লুইস। এতে পিএসজিকে গুনতে হচ্ছে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের দলবদলে আগে কোন ডিফেন্ডারের এত মূল্য দেখা যায়নি। সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে ডেভিড লুইস বলেন, আমি প্রস্তুত। আমি দলের সহ-অধিনায়ক। আর দলকে উজ্জীবিত রাখা আমার পক্ষে কঠিন নয়। দলের সবাইকে উৎফুল্ল দেখছি। আর দলের প্রতি প্রত্যেকের আত্মনিবেদনটাও স্পষ্ট চোখে পড়ছে। একটা পরিবারের মতোই আমরা দলের সবাই একতাবদ্ধ। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে জার্মানি তারকাদের সামাল দেয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে ডিফেন্ডার ডেভিড লুইসের। নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১২’র ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে দলের বাইরে ছিলেন সেবারের চেলসি অধিনায়ক জন টেরি। দুর্বার বায়ার্ন আক্রমণভাগকে ওই ম্যাচে দৃঢ় নৈপুণ্যে সামাল দেন ডেভিড লুইস। ১-১ গোলের সমতা শেষে টাইব্রেকারে সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জেতে লুইসের চেলসিই। জার্মানি অবশ্য রয়েছে নিজস্ব মুডে। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে জার্মানি দলে ৭ খেলোয়াড়ের জ্বরের খবর প্রকাশ করে চাঞ্চল্য ছড়ান কোচ জোয়াকিম লো’। আর ডিফেন্স সামলে খেলার ওপর তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্বজয়ী সাবেক জার্মান অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। আজ ব্রাজিলকে মোকাবিলার আগে জার্মানি দলের চোট-আঘাত বা অসুখ-বিসুখের খবর নেই। জার্মান-ব্রাজিল এটি ২২তম ফুটবল যুদ্ধ। তবে বিশ্বকাপে দল দুটির সাক্ষাৎ মাত্রই দ্বিতীয়বার। ফুটবলের মহাযজ্ঞে দু’দলের একমাত্র লড়াইটি অবশ্য আলাদা তাৎপর্যের। জার্মানি-ব্রাজিল একমাত্র সাক্ষাৎটি ২০০২’র ফাইনালে। এতে রোনালদো ডি লিমার জোড়া গোলে ২-০তে জয় নিয়ে শিরোপা হাতে তোলে ব্রাজিল। আর পরস্পর হারজিতের পরিসংখ্যানেও পাল্লা ভারি সাম্বা ছন্দের দলটির। ২১ মোকাবিলায় ব্রাজিল জয় দেখেছে ১২ বার। এতে ব্রাজিলকে জার্মানরা হারাতে পেরেছে ৪ বার মাত্র। বাকি ৫ ম্যাচ ড্র। বার্লিন দেয়াল ভেঙে ফেলার পর সম্মিলিত জার্মানি দল লাতিন শক্তি ব্রাজিলের মোকাবিলা করেছে ৯ বার। এতে দুই জয়ের বিপরীতে জার্মানরা হেরেছে ৫ বার। তবে সর্বশেষ মোকাবিলায় জয়ের স্বাদ জার্মানদের। ২০১১ সালের আগস্টে স্টুটগার্টের মাঠে প্রীতিম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারায় স্বাগতিক জার্মানি। ওই ম্যাচে জার্মানির তিন গোলদাতা বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার, মারিও গোটসা ও আন্দ্রে শুরলা এবারের দলেও রয়েছেন যথারীতি। তবে ব্রাজিলের দুই গোলদাতা নেইমার ও রবিনহো নেই সেলেসাওদের এবারের লড়াইয়ে। বিশ্বকাপে কখনও হার দেখেননি ব্রাজিল কোচ লুই ফেলিপে স্কলারি। আর জার্মানির বিপক্ষে স্কলারির সাফল্যের ঝকঝকে স্মৃতিটাও বিশ্বকাপেই। ব্রাজিল ২০০২’র বিশ্বকাপ জেতে কোচ স্কলারির অধীনে। টানা তিন বিশ্বকাপে জার্মানি দলের পরিচর্যায় কুশীলবের দায়িত্ব পালন করছেন জোয়াকিম লো। নিজ মাটিতে ২০০৬’র আসরে কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের সহকারী হয়ে দল সামলাচ্ছিলেন জোয়াকিম। আর দক্ষিণ আফ্রিকায় গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়লেও আসরে গতিনির্ভর ছন্দময় ফুটবলে দর্শকদের চমকে দেয় জোয়াকিমের জার্মানি। তবে এবার ব্রাজিলের মাটিতে চূড়ান্ত সাফল্য পেতে হলে বাড়তি কারিশমা দেখানো চাই জার্মানি কোচের। নিজ মাটিতে ব্রাজিলিয়ানরা ৪১ ম্যাচ অপরাজিত।
ভেতরের খবর
ব্রাজিল দলে নেইমারের জায়গা কে নেবেন? কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারির সামনেও এ এক বড় প্রশ্ন। এ জায়গায় অস্কার, উইলিয়ান, বারনার্ড ও হারনানেসের একজনকে বেছে নিতে হবে কোচকে। এতে ব্রাজিল কোচের প্রথম পছন্দ ইংলিশ ক্লাব চেলসির তারকা মিডফিল্ডার উইলিয়ান। তবে রোববার দলের অনুশীলনে উইলিয়ানের চোট পাওয়ার খবরে ফের চঞ্চল হয় ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম। অবশ্য গতকাল উইলিয়ান নিজে জানিয়েছেন, তার ইনজুরিটা যৎসামান্য। দুই হলুড কার্ডের খাঁড়ায় নিষিদ্ধ ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভার জায়গায় আজ ব্রাজিল দলে দেখা যাবে দান্তেকে। এটা ব্রাজিল দলের জন্য শাপে বর হয়ে উঠতে পারে, মনে করছেন বোদ্ধারা। পেশাদার লীগে বায়ার্ন মিউনিখে খেলেন দান্তে। জার্মানির আক্রমণভাগের শীর্ষ খেলোয়াড়দের নাড়িনক্ষত্র চেনেন বুন্দেসলীগায় সদ্য মওসুম সেরা এ ডিফেন্ডার। এবারের বিশ্বকাপে জার্মানির অন্যতম ভরসা অধিনায়ক ফিলিপ লাম, টনি ক্রুস, টমাস মুলার, মারিও গোটসারা খেলেন বায়ার্ন মিউনিখ দলে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে চোট নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছেন জার্মানির তরুণ রাইট ব্যাক শকোদরান মুস্তাফি। আজ ব্রাজিলের বিপক্ষে কোচ জোয়াকিম লো দলে পাচ্ছেন না অপর তারকা ডিফেন্ডার পার মার্টাসেকারকেও। অভিজ্ঞ এ আর্সেনাল ডিফেন্ডার ভুগছেন ফ্লু জ্বরে।
লুইস বনাম হামলস
প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেয়াটাই তাদের কাজ। তবে চলতি আসরে দলের জয়ে গোলেও ভূমিকা রাখছেন ব্রাজিল ডিফেন্ডার ডেভিড লুইস ও জার্মানির ম্যাটস হামলস। আসরে উভয়ে দেখিয়েছেন এ পর্যন্ত দুই গোল। দ্বিতীয় রাউন্ডে চিলির বিপক্ষে কঠিন ম্যাচে লুইসের গোলেই ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ১২০ মিনিটের লড়াই। পরে টাইব্রেকারে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে স্বাগতিক ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালেও লুইস দেখান ভেলকি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পথে দূরপাল্লার দারুণ ফ্রি কিকে এক গোল আদায় করেন লুইস। গ্রুপ পর্বে ঘানার বিপক্ষে কঠিন ম্যাচে ২-২ গোলে ড্রতে খেলা শেষ করে জার্মানরা। এতে জার্মানির এক গোল আসে ডিফেন্ডার ম্যাটস হামলসের হেড থেকে। হামলস তার গোল স্কোরিং নৈপুণ্য আরও একবার দেখান কোয়ার্টার ফাইনালের কঠিন ম্যাচে। ফ্রান্সের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে জার্মানি। জার্মানির জয়সূচক গোলটি পান হামলসই। আর ডেভিড লুইসের ভক্তদের স্বপ্ন বাড়ছে পরিসংখ্যান দেখে। স্কলারি ব্রাজিল দলে কোচের দায়িত্ব নিয়েছে ২০ মাস আগে। এ ২০ মাসে ব্রাজিল দলে ডেভিড লুইস যে ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন, ব্রাজিল ওই ম্যাচ কখনোই হারেনি।
ফ্রেড বনাম মুলার
এবারের বিশ্বকাপে তেমন কারিশমা দেখা যায়নি ফ্রেডের খেলায়। চলতি আসরে পাঁচ ম্যাচে মাত্র ১ গোল এ ব্রাজিল স্ট্রাইকারের। তবে তার যোগ্যতার চিহ্ন রেখেছেন তিনি ব্রাজিলের সর্বশেষ বড় শিরোপা জয়ে। গত বছর নিজ মাটিতে স্পেনকে ফাইনালে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ শিরোপা জেতে ব্রাজিল। আসরে পাঁচ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন ফ্রেড। নেইমারের অবর্তমানে আজ ফ্রেডের দিকে আলাদা নজর থাকছে ব্রাজিল সমর্থকদের। আসরে দ্বিতীয় সর্বাধিক চার গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নিজেকে শামিল রেখেছেন জার্মান ফরোয়ার্ড টমাস মুলারও। আসরে মুলার জার্মানির দুই গোলে রেখেছেন অ্যাসিস্ট।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫