Skip to content

বাংলাদেশের রাজনৈতিক জয় হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের এক বিশাল জয়। রায় এসেছে বাংলাদেশের পক্ষে। প্রায় ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রদেশ বাংলাদেশের অংশ হয়েছে। কূটনীতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমুদ্রে দেশের সীমা বাড়ার যে জয়, তা ছাপিয়ে গেছে এর রাজনৈতিক সমীকরণ।

তারা বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আরও একটি বাংলাদেশের সমান সমুদ্রদেশ জয় স্রেফ সীমা রেখার। কিন্তু ভারতের সঙ্গে তার প্রায় ছয় ভাগের একভাগ সীমানা জয় হলেও এই জয়কে শুধু ভৌগলিক সীমানার জয় বলা যাবে না। এটি আরো বড় কিছু।

এ প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কূটনৈতিক দক্ষতা, সহসী পদক্ষেপ ও সূদর প্রসারী পররাষ্ট্রনীতির জন্য এ রায়ে বাংলাদেশ জয়ী হয়েছে।

দুটি বন্ধু প্রতীম দেশের মধ্যে বিরোধ নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে সংশয় ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেছিলেন এতে ভারত মনক্ষুণ্ণ হতে পারে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ শালিস আদলতে যায়। আদালতের রায় বাংলাদেশের পক্ষে আসে। আর আজ এ রায় ভারতও মেনে নিয়েছে।

২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে আবেদন করে বাংলাদেশ। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ছিলেন এ মামলার বাদী।

ওই দিন ঢাকায় ভারতের তৎকালীন হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে মামলার চিঠি ধরিয়ে দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস।

একটি বিশাল শক্তিধর প্রতিবেশি দেশকে এমন একটি চিঠি ধরিয়ে দিতে পারাই বড় জয় ছিলো বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।

পররাষ্ট্র সচিবের কার্যালয় থেকে বের সেদিন পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেননি। প্রচণ্ড দাপুটে পিনাক রঞ্জন হাইকমিশনার হলেও সংবাদ মাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে কুণ্ঠাবোধ করতে না। অথচ সেদিন তিনি শুধু বলেছিলেন, ‘আস্ক দ্য সেক্রেটারি।’

পরে সচিব যখন জানালেন সেই সালিশ আবেদনের কথা তখনই স্পষ্ট হয়েছিলো কত বড় একটি পদক্ষেপ বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে।

তবে ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশি রাষ্ট্র। সবচেয়ে পরিক্ষিত বন্ধু দেশ। আর সে কারণেই এই জয়ের উচ্ছ্বাসও কম দেখাতে চায় বাংলাদেশ। নিজের জয় হলেও প্রতিবেশি বন্ধুর পরাজয়ে উচ্ছ্বাস চলে না।

আর সে কারণেই হয়তো পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বললেন, এই জয় বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশেরই। এটি বন্ধুত্বের বিজয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেখা গেলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী, এ মামলার বাংলাদেশের পক্ষে এজেন্ট সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সংযত উচ্ছ্বাস দেখালেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমদ বলেন, এ রায়ের পরে একটি সবচেয়ে বড় উন্নতি হলো মানচিত্রে আর বলতে হবে না এস্থানটি বিরোধপূর্ণ ।

কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে এ রায় সম্পর্কে আরো পরিস্কার করা উচিত। বিশেষ করে এ বিষয়ে ভারত নয় বাংলাদেশ নিজে ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটার এলাকা দাবি করে মামলা করেছে। কিন্তু রায়ে দেখা গেলো আমরা পেয়েছি ১৯,৬৬৭ বর্গকিলোমিটার। ৫৯৩৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারিয়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারি কী-না তা নিয়েও পরিস্কার করা উচিত।

ইমতিয়াজ আহমদ আরও বলেন, প্রায় সুন্দরবনের সমান একটি অঞ্চল আমরা দাবি করেও পাইনি তাহলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হারানো সীমানা নিয়ে পরিস্কার করে কিছু বলা হয়নি।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫