Skip to content

সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের ওপর হামলাকারীরা আজো আটক হয়নি

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ গত ২৯ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগকারীদের কেউ আজো গ্রেফতার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো মামলা বা তদন্তও হয়নি।

গত বছরের ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর বিরোধী দলের মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের ওপর সরকার সমর্থক বহিরাগতদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সুপ্রিম কোর্টের অনেক আইনজীবী নির্মম হামলার শিকার হন। সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। মহিলা আইনজীবী সিমকী ইমাম খানকে নগ্নভাবে পেটানো হয়, যা দেশের সব টেলিভিশনের সংবাদে দেখানো হয় ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের ওপর হামলাকারী কোনো সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়নি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে আন্দোলন সমাবেশ ও অনশন করে। দেশের জাতীয়পর্যায়ের নেতারা ওই অনশনে অংশগ্রহণ করেন। প্রধান বিচারপতিদের সাথে দেখা করে আইনজীবীরা হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবি জানালেও কোনো ফল হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে হামলাকারী কেউ এখনো আটক হয়নি।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টবারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আইনজীবীদের ওপর হামলা হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে। টেলিভিশন মিডিয়ায় দেখিয়েছে, পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আমরা মামলা করতে গেলে কোনো মামলা নেয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বলেন, আইনজীবীদের ওপর হামলা ও সুপ্রিম কোর্টে ভাঙচুরের ঘটনায় কিছু হয়নি। মামলা হয়নি। মামলা করার কথা তো সুপ্রিম কোর্টের। আমরা এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু কিছুই হয়নি।
গত ৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে হামলার প্রতিবাদে আইনজীবীদের অনশনে অংশ নিয়ে আ স ম আব্দুর রব বলেছিলেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলেও আইনজীবীদের ওপর এভাবে হামলা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে এক নারীর ওপর সরকারি গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে যেভাবে আক্রমণ করেছে, তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছিলেন, দেশের এ রকম একটি অবস্থায় যেখানে সুপ্রিম কোর্ট হবে আমাদের প্রত্যেকেরই আশ্রয়স্থল, সেখানে সুপ্রিম কোর্টেরই কোনো নিরাপত্তা নেই। এখানে যারা কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা নেই।
গত ২৯ ডিসেম্বর দেশের সর্বোচ্চ বিচার অঙ্গন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ওই দিন সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনের মধ্যে পুলিশ হামলাকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেনি।
ওই দিন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেটের কয়েক গজ দূরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সরকারের সমর্থনে সেøাগান দিতে থাকে। জাতীয় প্রেস কাবের দিক থেকে লাঠিসোটা নিয়ে দু’টি মিছিল এসে তাদের সাথে যোগ দেয়। একপর্যায়ে সরকারদলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকেরা পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড় ঠেলে সুপ্রিম কোর্টের গেট খুলে ঢুকে পড়েন। তাদের ধাওয়ায় আইনজীবীরা দৌড়াতে থাকেন। হামলাকারীরা এ সময় আইনজীবী সিমকী ইমাম খানকে ঘিরে ধরে লাথি, কিল-ঘুষি মারেন ও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। আরেক আইনজীবী রেহানা পারভীনকেও একইভাবে মারধর করা হয়। মারধরে তার বাঁ পায়ের তালু ফেটে রক্ত বের হচ্ছিল। তাকে নাজেহালও করা হয়। লাঠিপেটা ও মারধরে আরো কয়েকজন আইনজীবী আহত হন।
আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ঢুকে কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে দেন। তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকেরা ভবনের পাশে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলায় ২০ থেকে ২৫ জন আইনজীবী আহত হন।
সুপ্রিম কোর্টে সংঘটিত এই নজিরবিহীন ঘটনার আজো কোনো তদন্ত, মামলা বা বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫