বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ যতোই দিন যাচ্ছে শ্রমিক নেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে গার্মেন্ট-মালিক শ্রমিক উভয় পক্ষই। শ্রমিক নেতারা হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। গত রমজান মাসে একাধিক গার্মেন্ট কারখানায় অস্থিরতা তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে।
সূত্র মতে, আর এসব সমস্যা সমাধানে আলাপ আলোচনা পর্যায়ে কাওরানবাজারস্থ বিজিএমইএ(পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি) কার্যালয়ে এসে শ্রমিক নেতারা মোটা অঙ্কের টাকাও নিয়েছেন মালিকদের কাছ থেকে। এতে সাহায্য করেছে বিজিএমইএ’রই কিছু অসাধু কর্মকর্তা।
গত রমজান মাসে আল্টিমেট নামক একটি গার্মেন্ট কারখানার মালিকপক্ষের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বাংলাদেশ গার্মেণ্ট শ্রমিক লীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি। আল্টিমেট গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সময় মালিক পক্ষ শ্রমিকদের পুরো চার মাসের টাকা দিতে চাইলেও জল ঘোলা করেন সিরাজুল ইসলাম রনি। শ্রমিকদের উসকে দিয়ে হুমকি দেন যে, পাচ লাখ টাকা না দিলে এই সমস্যা সমাধান হবে না।
পরে মালিক পক্ষ বাধ্য হোন তাকে টাকা দিতে। কিন্তু বঞ্চিত হোন শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকরা চার মাসের বেনিফিট পাওয়ার কথা থাকলেও পান দুই মাসের পাওনাদি। আর সিরাজুল ইসলাম রনি শ্রমিকদের বোঝান যে, এই টাকাই নে। নয়তো দুই মাসেরটাও পাবি না।
অন্যদিকে মিরপুর এলাকার জকি গার্মেন্টেও অস্থিরতা দেখা দিলে একই কায়দায় সমস্যা সমাধান করেন সিরাজুল ইসলাম রনি। জকি গার্মেন্ট শ্রমিকদের পাওনা টাকা থেকেও গড়ে ৫০০ টাকা থেকে হাজার টাকা কমিশন নেয় শ্রমিকদের কাছ থেকে বলে জানায় বিজিএমইএ সূত্র।
শ্রমিক সংগঠন সূত্রে জানা যায়, একই ঘটনা ঘটে তোবা গার্মেন্টের এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। তোবা গার্মেন্টের আন্দোলনের প্রথম দফায় ২৩ জুলাই বিজিএমইএ এর কাছ থেকে লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে শ্রমিকদের দ্বারা বিতারিত হোন এক নারী শ্রমিক নেত্রী। তারপর সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর এর সভাপতি লীমা ফেরদৌসী, শ্রমিক নেতা বাহারানে সুলতান বাহারসহ কয়েকজন শ্রমিক নেতা বিজিএমইএ এর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে বলেও অভিযোগ করে তোবা কারখানার শ্রমিকরাই।
তবে সিরাজুল ইসলাম রনি তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের দিয়ে অসৎ কাজ করানোর চেষ্টা করে মালিকপক্ষ যখন ব্যর্থ হয় তখনই তারা এসব অভিযোগ তোলেন। নাজমা আক্তারকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কারা টাকা খায় তা শ্রমিকরা জানেন। আমি কারো নাম নিতে চাই না। দেখলেন না, তোবার শ্রমিকরা কারে ধাওয়া দিছে।
এসব বিষয়ে শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। এর বিরুদ্ধে আমি কিছু বলতে চাই না। আমি নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছড়ি চাই না।
বিজিএমইএ এর পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আমরা যারা গার্মেন্টস ব্যবসা করি তাদের এখন বায়ারদের যে পরিমাণ সমীহ না করা লাগে তার থেকে কয়েকশ গুন বেশি সমীহ করা লাগে শ্রমিক নেতাদের। তাছাড়া এমন কোনো উৎসব নেই যে তারা আমাদের কাছ থেকে এসে টাকা নিয়ে যায় না। বলে এটা নাকি তাদের সালামি। না দিলেই দেখা যায় একটা ঝামেলা তৈরি করে। প্রশাসনেরও কিছুই করার থাকে না।
এসব বিষয়ে বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি মোঃ শহীদুল্লাহ আজীম বাংলানিউজকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কানেও আসে কিন্তু তথ্য প্রমাণের অভাবে কেউ কিছুই করতে পারছে না। আর এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের। আমার সরকারের প্রতি অনুরোদ এসব বিষয়ে প্রতি যাতে নজর দেয়া হোক। দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয়া হোক। আর এর সাথে বিজিএমইএ এর কেউ জড়িত থাকলে সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
