স্টাফ রিপোর্টার ॥ ওমেদার থেকে ভূমি উপসহকারী শেফালী আক্তারের এতো আয়ের উৎস কোত্থেকে? এটি এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে কর্মজীবনের ১৪ বছর একই স্টেশনে থেকে দূর্নীতির শক্ত খুঁটি গেড়ে অলিখিত আয় করে যাচ্ছেন প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা।
এলাকাবাসী জানান, শেফালী আক্তার একজন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তার পিতা গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের বিবাদিয়া গ্রামের সিরাজ মোল্লার ৮ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান শেফালী আক্তার। অনেক কষ্টে জীপন যাপন করতেন এই সিরাজ মোল্লা, কষ্টের জীবনে কোন রকমভাবে সংসার চালিয়ে শেফালীকে সামান্য লেখাপড়া করিয়েছেন তার পিতা। গাজীপুর ডিসি অফিসের সহকারী অরুন বাবুর হাত ধরে উমেদার হিসাবে প্রথমেই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অফিসে যোগদান করেন। উমেদার হিসেবেই ঘুষ-দূর্নীতির কলাকৌশল জেনে নেন। অত:পর শেফালী আক্তার ১১/০৩/২০০১খ্রিস্টাব্দে এমএলএস পদে চাকুরীতে গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেন। তখন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এসএসসি। পরবর্তীতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে এইচএসসি পাশ করেন। ২০১৩ সালে পদোন্নতি পায় ভূমি উপসহকারী পদে। চাকুরীতে যোগদান করেন বাড়ীয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসেই এবং অবসর ও গ্রহণ করতে চান এই অফিস থেকেই।
কিভাবে একই ব্যক্তি পদোন্নতি পাওয়ার পরও একই কর্মস্থলে থাকেন এমন প্রশ্ন অনেকেরই। এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর দারস্থ হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন।
শেফালী আক্তার সর্বসাকুল্যে বেতন পান প্রায় আট হাজার টাকা। কিন্তু তার এই আরাম আয়েশের জীবনে একদিনের খরচ এই টাকায় সংকুলান সম্ভব নয়। সম্প্রতি গাজীপুর সিটির বরুদা এলাকায় চার কাঠা জমির উপর তৈরী করেছেন পাঁচতলা ভবন। যার মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা। এলাকাবাসীর প্রশ্নঃ কিভাবে তা সম্ভব? তবে কি আলাদিনের চেরাগ পেয়েছে?
এদিকে অনেকেই বলছেন, ভূমি অফিসে চাকরি করে এতো বড় ভবন তৈরি করা অসম্ভবের কিছুই না। কারণ জমির খারিজ করতে টাকা লাগে এটা বর্তমানে রওয়াজে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, একই অফিসে দীর্ঘদিন থেকে খারিজ বাণিজ্যে (ঘুষ-দূর্নীতিতে) সিক্ত হস্ত শেফালী আক্তার। ঘুষ ছাড়া কোন ফাইল এক চুল নড়েনা। খারিজ (নামজারী জমাভাগ) ফাইল ৫ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। তবে জমির মূল্য ও পরিমাণের সাথে ঘুষ বাণিজ্যের রফা হয়। তবে শেফালী কৈশলে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের। সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে কষে কষে মোটা অংকের টাকা নিয়ে উপরস্থ কর্মকর্তাদের ভাগ দিয়ে তাদের তুষ্ট রাখেন। কাকে কিভাবে বশ করতে হয় তা রপ্ত করেছেন বহু আগেই। তাই দূর্নীতির খুঁটি গাড়া এ স্টেশনটি তিনি ছাড়তে নারাজ।
আরেকটি সূত্র জানায়, সরকার ’খ’ তফসিলভূক্ত সম্পত্তি অবমুক্ত করার সাথে সাথে শেফালী আক্তার যেন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। এ ক্ষেত্রে একটি ফাইল ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। অন্যথায় নামজারী ও জমাভাগের কাগজ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সব বিষয়ে বেগম শেফালী আক্তারকে এ প্রতিবেদক মোবাইলফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানকে মোবাইলফোনটি ধরিয়ে দেন। আব্দুল মান্নান এ সব বিষয়ে পত্রিকায় লেখা-লেখি না করার জন্য সুপারিশ করেন।
দূর্নীতিবাজ ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শেফালী আক্তার একই স্টেশনে ১৪ বছর
আপডেট :August 21, 2014
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
