বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: হরতাল অবরোধ ঘেরাও বা অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার কথা আপাতত ভাবছে না বিএনপি। সরকার বিরোধী আন্দোলনে ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস মঙ্গলবার বাংলানিউজকে বলেন, আমরা খুব ফাস্ট যাচ্ছি না। আমাদের কর্মসূচি হবে আপাতত স্লোয়ার স্টেজে এবং শান্তিপূর্ণ।
সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ভাষণ-বক্তৃতায় কঠোর আন্দোলনের কথা বললেও সেটি ছিল তাদের রাজনৈতিক কৌশল। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, তড়িঘড়ি করে কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামলে এই মুহূর্তে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভবনা খুবই কম।
এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ঈদুল ফিতরের পর কঠোর কর্মসূচির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ইস্যুভিত্তিক ছোট ছোট কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। গাজায় গণহত্যা ও জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রতিবাদে ১৬ ও ১৯ আগস্ট রাজধানীতে কালো পতাকা মিছিল ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।
এরপর ২১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী রাজনৈতিক গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।
বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবার ঢাকা মহানগরে ১৫টি জায়গায় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য ঝামেলা এড়াতে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রতিবাদ সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
এ ছাড়া ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ৩ সেপ্টেম্বর দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ১১ সেপ্টম্বর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।
জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে অর্থাৎ ঈদুল আজহার আগে ঢাকা ও পার্শ¦বর্তী একটি জেলায় সমাবেশ করতে পারেন খালেদা জিয়া। তবে সেটি যদি ঈদুল আজহার আগে সম্ভব নাও হয়, ঈদুল আজহার পরে হলেও করবেন তিনি।
সূত্রমতে, দলটির হাইকমান্ড মনে করে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর গত ৮ মাসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ কাটিয়ে উঠে অনেকটাই শক্ত অবস্থানে রয়েছে সরকার। অন্যদিকে নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা মকদ্দমায় জর্জরিত হয়ে খর্ব শক্তির দলে পরিণত হয়েছে বিএনপি। তাই এই মুহূর্তে কঠোর আন্দোলনে নেমে সরকারের রোষাণলে পড়তে রাজি নয় তারা।
জানা গেছে, বিএনপির অতি উৎসাহী একটি অংশ ২৯ ডিসেম্বরের মতো মার্চ ফর ডেমোক্রেসি ধরনের আরেকটি কর্মসূচি দিতে দলের হাইকমান্ডকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে। ওই অংশটির মতে ‘যেহেতু দেশে এখন গণতন্ত্র নেই’ বলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হচ্ছে বিএনপিকে, সেহেতু যে কর্মসূচিই দেওয়া হোক তার স্লোগান যেন হয় ‘মার্চ ফর ডেমেক্রেসি’ ধরনের। তবে এই মুহূর্তে ওই ধরনের কর্মসূচির কথা ভাবছে না দলটির হাইকমান্ড।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বাংলানিউজকে বলেন, আপাতত মার্চ ফর ডেমোক্রেসির মতো কর্মসূচির চিন্তা-ভাবনা আমাদের নেই। আমরা ধাপে ধাপে এগুতে চাই। কোনো হটকারী সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে নিচ্ছে না বিএনপি। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
