Skip to content

আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের শিথিলতা কাটবে দুই চুক্তিতে

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে সম্পর্কের শিথিলতা কাটাতে বন্দি বিনিময় ও নিরাপত্তা চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এসব চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজারটি খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি দেশটির আস্থা আনতেই এ চুক্তিগুলো স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন আমিরাত সফরে চুক্তি দু’টি স্বাক্ষরিত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে বন্দি বাংলাদেশিদের সরকারি ব্যয়ে ফিরিয়ে আনা হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এর আওতায় থাকবেন।
এছাড়া দু’দেশের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন বিটুইন দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য ইউনাইটেড আরব আমিরাত অ্যান্ড দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এ চুক্তির আওতায় মানবপাচার, সন্ত্রাস, মারণাস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র, আর্থিক অপরাধ দমনে দুই দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) এ চুক্তিটির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এগুলোর পাশাপাশি সব ধরনের দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ভিসা চালু, শ্রমিক রফতানি চালু এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।
জানা গেছে, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর সংযুক্ত আবর আমিরাতে দ্বি-পাক্ষিক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মাসে হাজারখানেক গৃহকর্মী ভিসা পান। এছাড়া অন্যান্য ভিসা প্রায় বন্ধ রয়েছে।
দেশটির শ্রমবাজার নতুন করে চালু, ভিসা জটিলতা নিরসন এবং ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২০ স্থান নির্ধারণী ভোটাভুটির পর সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে আসছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় জটিলতা নিরসনে আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি ও দুবাইয়ের সাংবিধানিক বাদশাহ শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমিরাত সফরে যাচ্ছেন।
আর প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও বন্দি বিনিময় বিষয়ক দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখের মতো বাংলাদেশি নানা পেশায় কর্মরত আছেন। দেশটির কারাগারে আছেন প্রায় এক হাজারের মতো দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বন্দি। তাদের মধ্যে ১৯ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১০৪ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। দেশটিতে থাকা প্রবাসীদের ১০ শতাংশ বাংলাদেশি হলেও তাদের বিরাট অংশ দেশটিতে অপরাধ কর্মের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত অপরাধপ্রবণতা, কর্মক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, শ্রমিক নিয়োগ বা পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ক্রমবর্ধমান হারে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় ওই দেশের শ্রমবাজারে নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় শ্রমবাজারটি।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, ‘বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে এগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন বিটুইন দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য ইউনাইটেড আরব আমিরাত অ্যান্ড দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় মানবপাচার, সন্ত্রাস, মারণাস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র, আর্থিক অপরাধ দমনে দুই দেশ পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন আমিরাত সফরে এ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ বাংলাদেশী রয়েছেন। কঠোর ভিসা ব্যবস্থার কারণে নতুন শ্রমিকরা বাজারটিতে যেতে পারছে না। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর সফর এ সমস্যা কাটাবে।
প্রধানমন্ত্রীর আরব আমিরাত সফরের সময় এগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেনটেন্স পারসনস স্বাক্ষরের প্রস্তুতি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, মূলত সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে কৌশলগত দিক থেকে চুক্তি দু’টিতে আগ্রহী বাংলাদেশ। এছাড়া বন্দি বিনিময় চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বন্দি বিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে বর্তমানে একটি প্রতিনিধি দল দুবাইয়ে রয়েছে। প্রতিনিধি দলটি ফিরে এলে এ বিষয়ে ইউএই’র অবস্থান পরিষ্কার হবে। তবে শেষ মুহূর্ত হওয়ায় চুক্তিটি নিয়ে ইউএই’র কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০’র পর সম্পর্কে যে শীতলতা এসেছে তা কাটাতেই মূলত প্রধানমন্ত্রীর এ সফর। ইউএই’র সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এলে তা মধ্যপ্রাচ্যের বাকি দেশগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশি শ্রমিকদের অপরাধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় আমিরাতের পক্ষ থেকে চুক্তিগুলো করার আগ্রহ জানানো হয়। ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির এমন চুক্তি আছে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫