বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: আলোচিত ২৮ অক্টোবরে নিহতদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামী।
এরই অংশ হিসেবে সোমবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ‘২৮ অক্টোবরের নৈরাজ্য রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক লিফলেট বিতরণ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
সকাল নয়টার দিকে জামায়াত উত্তরা পশ্চিম থানা আমির আবু উমরের নেতৃত্বে সোনারগাঁ জনপথ রোডের বিভিন্ন পয়েন্টে লিফলেট বিলি করা হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত নেতা সলিম উল্যাহ, ফরিদ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, বদিউজ্জামান প্রমুখ।
এছাড়া দিনটি স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের পালাবদলের শেষ দিন ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংস ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারায় ১৩ জন। আহত হয় কয়েক হাজার মানুষ।
২০০৬ সালের ওইদিন পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের অবরোধ কর্মসূচি ছিল। বিএনপি কর্মসূচি পালনে অবস্থান নেয় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। আর জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি ছিল জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে।
মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নিজ নিজ দলের কর্মসূচিস্থলে আসতে থাকে। এক পর্যায়ে পল্টনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মীদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
মুহূর্তের মধ্যে গুলি, ইটপাটকেল ও লগি-বৈঠার মিছিলে পুরো পল্টন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুপুরের পর সংঘর্ষ আরো মারাত্মক রূপ নিলে অসহায় পুলিশ পিছু হটে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেয়।
ওইদিনের সংঘর্ষে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছয়জন এবং ছাত্রমৈত্রীর একজন কর্মী প্রাণ হারায়। প্রকাশ্যে পিটিয়ে মানুষ হত্যার পর লাশের ওপর উঠে নৃত্যের মতো ঘটনা ওইদিন টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ফলে মানুষ দেখতে পায়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সৃষ্টি হয় এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এরপরই নেমে আসে আলোচিত ওয়ান-ইলেভেন।
২৮ অক্টোবরের সংঘর্ষে পল্টনে জামায়াত-শিবিরের নিহত নেতাকর্মীরা হলেন- মোজাহিদুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন (১), জসিম উদ্দিন (২), গোলাম কিবরিয়া শিপন, ফয়সাল ও হাবিবুর রহমান। আর পল্টন মোড়ে নিহত হন ছাত্রমৈত্রীর খিলগাঁও থানা সাধারণ সম্পাদক রাসেল খান।
