বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত কলেজগুলোকে ন্যাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আর্জনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে দেশের ২৭৯ টি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীকে। এতে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণরত প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থীর মুখে হাসি ফুটলেও বিপত্তি দেখা দিয়েছে।
কলেজের শিক্ষার্থীদের বোঝা নিতে নারাজ দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কলেজের বোঝা নিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ে জানিয়ে দিয়েছে, তারা নতুন করে আর সরকারি কলেজের বোঝা বহন করতে পারবে না। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ও জানিয়েছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ তহবিল না দিলে তারাও সরকারি কলেজের বোঝা বহন করবে না।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মূলত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিকেন্দ্রীকরণের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে। আর এতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি ঠেকানোরও এটি একটি কৌশল বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করতে এসে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট ও অনিয়ম-দুর্নীতি কমাতে বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও বড় বড় জেলা শহরে অবস্থিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি কলেজকে ন্যস্ত করতে। এরপরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ শুরু করে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আটঘাট বেঁধে নেমেছে। আগামী কাল (২৮ অক্টোবর) স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
তবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেনে, সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে যেসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি কলেজ দেয়া হবে সেসব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গতিশীলতা আনতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে সরকারি কলেজ চলে গেলে সেখানকার একাডেমিক কাউন্সিলে কলেজ শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
জানা গেছে, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করছে। অন্যরা বেসরকারি কলেজে।
একসময় সরকারি-বেসরকারি কলেজ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই ছিল। কিন্তু ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর কলেজগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেয়া হয়। সেই থেকে কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশীদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে সায় দিলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপর দায়িত্ব অর্পনের বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ। (ক্যাম্পাসলাইভ২৪)
