কাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে আকরাম হোসেন রিপন ॥
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিরীহ এক ব্যাক্তিকে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারপিট করে মারাত্মক ভাবে আহত করায় গতকাল শনিবার টোক এলাকায় থানার ওসি’র অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এ সময় বিক্ষোদ্ধ এলাকাবাসী ঢকা-কাপাসিয়া-টোক-কিশোরগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে ৬ ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ করে রাখে। দুপুর ২ টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ^াসের প্রেক্ষিতে বিক্ষোদ্ধরা কর্মসূচি একদিনের জন্য স্থগিত ও অবরোধ তোলে নেয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় টোক বাজার ফাঁড়ি পুলিশ টোকনগর গ্রামের মৃত আউয়ালের পুত্র হাসেম (৫০) কে তার বাড়ি থেকে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। এ সময় হাসেমের লোকজন তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য ফাঁড়ি অবরোধ করে রাখে। দীর্ঘ সময় আটক রাখার পর রাত ৯ টার দিকে থানার ওসি আহসান উল্লাহ ওই ফাঁড়িতে গেলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য ব্যাক্তিরা তাকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ওসি হাসেমকে না ছেড়ে পুলিশের গাড়ীতে তোলে তাকে বেদম মারপিট করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় টোকের কামারটেক স্কুলের পাশে ফেলে যায়। সেখানে তার প্রতিপক্ষ হারুন ও ছাত্তার তাকে আবারও মারপিট করে। এ ঘটনা সকালে জানাজানি হলে স্থানীয় শ্রমিক লীগ ও এলাকাবাসী ফুঁসতে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একপর্য়ায়ে টোক বাইপাস সড়কে থানার ওসির অপসারণ ও তাঁর বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এতে উই সড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ জলিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইন আকবর মঞ্জু, টোক ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি দেবাংশু কুমার, টোক বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আঃ হান্নান বাবুল প্রমুখ।
সমাবেশ চলাকালীন এক পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বিক্ষোদ্ধ এলাকাবাসীকে শান্ত এবং ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ^াস প্রদান করেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ জলিল জানান, সম্প্রতি হাসেম তার পৈত্রিক সম্পত্তি স্বপন নামে এক ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে। সে ওই জায়গায় ঘর উঠানোর সময় একই গ্রামের প্রতিপক্ষ হারুন ও তার শ্যালক ছাত্তার, মোতালিব মিলিটারীসহ কতিপয় ব্যক্তি বাধা প্রদান করে এবং হারুনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এ ঘটনায় টোক ফাঁড়ি পুলিশ হারুনকে ধরে এনে প্রকাশ্যে নির্যাতন করে।
পুলিশি হামলায় আহত হাসেম জানান, ফাঁড়ি পুলিশ তাকে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে ধরে এনে আটকে রাখে। পরে থানার ওসি পুলিশ ভ্যানে তুলে অমানুষিক নির্যাতন করে রক্তাত্ব অবস্থায় কামারটেক এলাকায় ফেলে যায়।
ওসি আহসান উল্লাহ জানান, হাসেমের সাথে হারুনের বিরোধপূর্ণ জায়গার বিষয়ে অভিযোগের কারণে পূর্বেই থানায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মিমাংসা হয়। কিন্ত হারুন সির্দ্ধন্ত অমান্যকরে পুনরায় ওই জায়াগা দখল নিতে যায়। তাই পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে আসে। কিন্ত তিনি হারুনকে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।
কাপাসিয়া থানার ওসি’র অপসারণ দাবী
আপডেট :November 9, 2014
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
