বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
লক্ষ্মীপুর: জাহাজ শ্রমিকদের অন্তর্কোন্দল ও বাবুর্চি নিয়োগকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে এমভি কর্ণফুলী ফাইভ নামে লাইটারেজ জাহাজে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। জলদুস্যতা বা ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কমল নগর থানা পুলিশ। খবর সময় টেলিভিশনের।
সার বোঝাই এমভি কর্ণফুলী-৫ লাইটারেজ জাহাজটি গত শুক্রবার পাবনার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছেড়ে আসে। পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, জাহাজটি লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর চর আবদুল্লাহ এলাকায় পৌঁছালে শ্রমিক শামীম ও টিটু এবং শামীমের আত্মীয় পরিচয়ে উঠা অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মিলে, চালক নেওয়াজ হোসেনকে জিম্মি করে বাকি শ্রমিকদের রুমে তালা লাগিয়ে দেয়। এর পরই ঘটে রক্তারক্তি ও নিখোঁজের ঘটনা।
শনিবার জাহাজটির সন্ধান পেয়ে এর ভেতর থেকে তিন শ্রমিককে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়। রোববার রাতে চালকের লাশ লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ শ্রমিক। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে আত্মীয়সহ জাহাজ শ্রমিক শামীম ও টিটু পলাতক।
এ প্রসঙ্গে গ্রাম পুলিশ শাহজাহান বলেন, “যে মাস্টার যে মেস্তুরি ও যে সারেং ছিল তারা কেউ নেই। তাদের যে জিনিস ছিল সবগুলো ওভাবেই পড়ে আছে। জাহাজের যে সার ছিল সেগুলো ঠিকই আছে কোনো সার খোয়া যায়নি।”
পুলিশ বলছে, ডাকাতি নয়, পুরো ঘটনাই ঘটেছে শ্রমিকদের অন্তর্কোন্দল এবং বাবুর্চি নিয়োগকে কেন্দ্র করে।
এ প্রসঙ্গে লক্ষ্মীপুরের হাজির হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “পারভেজ নামের এক শ্রমিক জানায় জাহাজের মধ্যে বাবুর্চি নিয়োগ নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছিল। টিটু ও শামীম তাদের পছন্দমতো বাবুর্চি নিয়োগ করা নিয়ে আগের বাবুর্চিকে মারধোর করে।”
এ ঘটনায় জাহাজ শ্রমিক শামীম, টিটু ও পারভেজসহ পাঁচজনকে আসামি করে রোববার কমলনগর থানায় মামলা করার পর জাহাজ থেকে উদ্ধার হওয়া তিন শ্রমিকের মধ্যে পারভেজকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম
