বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
নোয়াখালী: বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে এখন নতুন ফসল কাটার মৌসুম। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর পরিবেশও ছিল একই। নবান্নের মৌসুমে এমনি আনন্দঘন পরিবেশে আকস্মিকভাবে বয়ে যায় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারায়, মারা যায় অগণিত পশু, বিরান হয় জনপদ।
প্রকৃতির কাছে আজো অসহায় উপকূলের মানুষ। বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তন তাদের আতংক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলজুড়ে বয়ে যাওয়া ভয়াল গোর্কী নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের হাতিয়া, সুবর্নচর, সদর, কোম্পানীগঞ্জের উপকূলকে ও বিরান জনপদে পরিণত করে। ২৫ থেকে ৩০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস থেকে সেদিন যারা প্রানে বেঁচে ছিলেন তাদের স্মৃতিতে সেই দুঃসপ্নের দিনটি আজও অমলিন।
দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে নোয়াখালীর উপকূলজুড়ে এখন বিস্ত্রীর্ণ চরাঞ্চলের সমারোহ। ছোট বড় ১৯ টি চরাঞ্চলে ভূমির আয়তন প্রায় ১৫০ বর্গ কিলোমিটার।
দীর্ঘ ৪৩ বছর পর সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করে ফেরে ঘর্ণিঝড়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর মনে। ১২ নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে কেউ হারিয়েছে বাবা-মা, ভাই-বোন আবার কেউ তার প্রিয়তমা স্ত্রী-সন্তানদের।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বিস্তির্ণ ফসলি জমিটি সে সময় ছিল প্রবহমান নদী। ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা পরবর্তী এখানে জেগে ওঠে বিশাল চর। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগে নদী উপকূলবর্তী মানুষগুলোকে সর্তকতার জন্য তখন এখানে ছিলনা কোন আবহাওয়া অফিস বা সাইক্লোন সেন্টার।
ছিলনা কোন তথ্য প্রযুক্তি বা উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। ১২ নভেম্বরের দিনটিতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। সারাদিন রোজা রেখে ক্লান্ত মানুষগুলো যখন ঘুমিয়ে পড়েছে তখনই আঘাত হানে ভয়ঙ্কর এক ঘূর্ণিঝড়। গভীর রাতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষ, ঘরবাড়ী ও গবাদি পশুগুলো।
কথাগুলো বলছিলেন, সূবর্ণচরের পূর্বচরবাটা উপকূলীয় অঞ্চলে বাবা-মা, ভাই-বোন হারানোর পর অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়ার মজিবুল হক মেম্বার (৭১)। লাশ খুজে না পাওয়া নিজ পরিবারের নয়জনকে হারানো এই মানুষটি একটি গাছ আকঁড়ে ধরে সেদিন কোনমতে প্রাণে বেঁচে যায়।
বছর ঘুরে ফিরে আসা স্বজন হারা মানুষ গুলোর স্মৃতিকে ভারাক্রান্ত করে তুললেও প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে টিকে থাকা বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলের এসব মানুষ আরো একটা ১২ নভেম্বর মোকাবিলা করে টিকে থাকার মতো রাষ্ট্রীয় কিংবা সামাজিক অবকাঠামোর আওতায় এখনো আসতে পারেনি। নতুন বার্তা ডটকম
