Skip to content

যেসব অভিযোগে ফাঁসতে পারেন খোকন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক এমএ জাহিদ হোসেন ওরফে খোকনের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল খোকনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। ওই বছরেরই ২৯ মে তা শেষ হয়। এ মামলায় ৫০ জনকে সাক্ষী করা হয়।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। মোট তিনদিন যুক্তি উপস্থাপনের পর গত ১৬ এপ্রিল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামির পক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান। পরে গত ১৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।

জাহিদ হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো হলো-

১. একাত্তর সালের ২৭ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৬টায় খোকন ও তার বড় ভাই রাজাকার জাফরের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল নগরকান্দা থানার বংরাম গ্রামে প্রবেশ করে। এসময় তারা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই মোল্লা ও নাজিম উদ্দিন মোল্লার বাড়িসহ ৬টি বাড়ি লুটপাট করে এবং এলাকার ১৭ ব্যক্তিকে থানা মাঠে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। এর দু’দিন পর ওই ১৭ ব্যক্তির প্রত্যেকের পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়।

২. একাত্তর সালের ২৮ এপ্রিল থেকে ৬ মে সময়ের মধ্যে খোকনের নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনী কানাই লাল মন্ডল ও জঙ্গুরদি বাগুটিয়া গ্রামের জীবন দাসের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাদেরকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়। এর আগে তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয় এবং দুই পরিবারের পক্ষ থেকে যথাক্রমে ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

৩. একাত্তরের ১৬ মে থেকে ২৮ মে এবং ১৮ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই এর মধ্যবর্তী সময়ে খোকন ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী একজন মৌলবী নিয়ে জীবন দাসের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে এবং তাকে একটি মুসলিম নাম দেয়। একই সঙ্গে জীবন দাসের পরিবারের মহিলা সদস্যদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে তাদেরকে ওই মৌলবী দিয়ে কলেমা পরিয়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ রয়েছে।

৪. একাত্তর সালের ২৭ মে বেলা আনুমানিক ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে খোকন রাজাকার তার বড় ভাই ও সশস্ত্র রাজাকারবাহিনী নিয়ে চাঁদহাট গ্রামের বণিক পারায় প্রবেশ করে। পরে তারা জগন্নাথ দত্তের বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক লটুতরাজ চালায় এবং আরো ১৬/১৭জন হিন্দুকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।

এছাড়াও এলাকার মন্দিরে ভাঙচুরসহ বেলা আনুমানিক ১১টার সময় জোরপূর্বক টগর দাস দত্তের স্ত্রী রাধা রাণী দাসকে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে খোকনের বিরুদ্ধে। একই সময়ে মৃত হাকিয়ার দে’র অবিবাহিত কন্যা খুকু রাণী দাসকে খোকনের নির্দেশে রাজাকার বাহিনী দ্বারা ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।

৫. একাত্তরের ৩০ মে তারিখে খোকন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও রাজাকার বাহিনী নিয়ে কোদালীয়া গ্রামের শহীদনহরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ঘর-বাড়িতে এলোপাতারি গুলি করে এবং লুটপাট চালায়। এসময় ১৬জন মহিলা ও শিশু ঘটনাস্থলে মারা যায়। এর কিছু পর গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে আফজাল হোসেন ও শুকুর সেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

৬. একাত্তরের ৩০ মে খোকন জামায়াত ইসলামীর ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেয় এবং পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকার বাহিনী নিয়ে নিয়ে ঈশ্বরদী গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ও দোকানে অগ্নি সংযোগ করে। এসময় রাজাকাররা খোকনের নির্দেশে সালাম মাতুব্বর, শ্রীমতি খাতুন, লাল মিয়া মাতুব্বর ও মাজেদ মাতুব্বরকে গুলি করে এবং বেবি ফুলমতি খাতুনকে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

৭. একাত্তরের ৩১ মে তারিখে খোকন তার রাজাকার বাহিনী ও পাকিস্তানি বাহিনী নিয়ে দিঘলীয়া গ্রামে এসে পিজিরুদ্দিন, আফজাল ও সেখ সাদেকের বাড়িতে আগুন দিয়ে তাদেরকে পুরিয়ে হত্যা করে। একই দিন বনগ্রামে আব্দুল হাই মোল্লা, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ইকরাম মোল্লা, মো. ইউনুছ মোল্লা ও আব্দুর রহমান মোল্লার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তার নির্দেশে মেহেরদীয় গ্রামে আসিরুদ্দিন মাতুব্বর ও সাফিজুদ্দিন মাতুব্বরকে পাকিস্তানিরা গুলি করে হত্যা করে ও স্থানীয় আরো কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

৮. একই তারিখে তারা গোয়ালদী গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থক ও স্থানীয় হিন্দুদের ওপর হামলা চালিয়ে রাজেন্দ্রনাথ রায়কে গুলি করে হত্যা করে। একই গ্রামে হান্নান মুন্সী ও তার ঘুমন্ত শিশু সন্তান এবং তার বাবা-মাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

৯. একাত্তরের ৩১ মে তারিখে খোকনের নেতৃত্বে রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনী পুরাপারা গ্রামের ছোটু খাতুন,বারেক মোল্লা এবং রতন সেখসহ আরো তিনজনকে পুরাপারা মসজিদের কাছে নিয়ে হত্যা করে।

১০. একাত্তর সালের ১ জুন তারিখে খোকনের নেতৃত্বে রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনী বাঘাট ও চুরিয়ারচর গ্রামে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ সমর্থক মিনি বেগমের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং মিনি বেগমের বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুরি ও ছোট ভাইকে হত্যা করে। এছাড়াও আরো ১০/১৫জনকে গুলি করে হত্যা করে।

১১. একাত্তরের ১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই তারিখের মধ্যবর্তী সময়ে খোকনের নেতৃত্বে রাজাকার ও পাকবাহিনী জঙ্গুরদী-বাগুটিয়া গ্রামে প্রবেশ করে এবং খোকন তার নিজস্ব রাইফেল দিয়ে কানাইলাল মণ্ডলকে গুলি করে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলামেইল২৪ডটকম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫