বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
চট্টগ্রাম : ৬ শতাধিক যাত্রী নিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সাগরে আটক ট্রলার চট্টগ্রাম পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নৌবাহিনীর রেডি রেসপন্স বার্থ (আরআরবি) জেটিঘাট এলাকায় পৌঁছে ট্রলার। সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টায় নৌবাহিনীর জাহাজ দুর্জয়ের পাহারায় এটিকে নিয়ে আসা হয়। এর আগে নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ দুর্জয় সোমবার সকাল ৯টায় গভীর সাগরে ওই ট্রলার আটক করে।
একজনের শরীরের সঙ্গে অপরজনের শরীর লাগানো। কারো পিঠের সঙ্গে পিঠ, আবার কারো পেটের সঙ্গে পেট, এভাবে ইলিশ মাছ ফাইল করার মত করেই ৬১৩ জনকে ট্রলারে করে সাগর পথে পাচার করছিলো ১১ দালাল।
কক্সবাজার জেলার টেকনাফ এলাকায় বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে নৌবাহিনী ৬২৫ আরোহীসহ ওই ট্রলার আটক করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার পর দেখা গেছে এ অমানবিক চিত্র।
আটক ৬২৫ জনের মধ্যে মায়ানমারের ১১জন মানব পাচারকারী ও দুই জন বাংলাদেশি দালালকে সনাক্ত করা হয়। আটক অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশী নাগরিক ৪৪৫ জন পুরুষ, ১৫ নারী ও ২০ শিশু রয়েছে। অপরদিকে মিয়ানমারের নাগরিকদের মধ্যে রয়েছে পুরুষ ৪৫ জন, ১৯ নারী ও ১২টি শিশু।
চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসার পর তাদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয় রাত ৮টার দিকে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ (বিএনএ) দুর্জয়ের অধিনায়ক মিয়া মোহাম্মদ নঈম এই আটকের ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
মোহাম্মদ নঈম জানান, অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের দালালরা কাঠের তৈরি একটি কার্গো ট্রলারে করে ৬১৩ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নাগরিককে মালয়েশিয়া পাচার করছিলো। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ বাংলার দুর্জয় সাগরে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় মিয়ানমার থেকে মাত্র ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকতে বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারকে দেখতে পেয়ে আটক করে।
পরে এই জাহাজের মধ্যে শত শত মানুষকে মালয়েশিয়া পাচারের চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়। আটক নাগরিকরা জানিয়েছে তারা কেউ কাজের সন্ধানে, কেউ আত্মীয়ের কাছে, কেউ স্বামী বা সন্তানের কাছে যাওয়ার লক্ষ্যে দালালের মাধ্যমে এই মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে উঠেছিলো।
মোহাম্মদ নঈম আরও জানান, আটককৃতদের ব্যাপারে পুলিশের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়া চলছে। বুধবার সকালে তাদের সবাইকে পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হবে। এর পর পুলিশ তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম ডেস্ক
