বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: বাংলাদেশে বহুক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিরূপ পরিবেশ বিরাজমান। সরকার এদের জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবিক অর্থে যেসব সুবিধা তাদের জন্য নিশ্চিত করা হয়নি। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষার বিষয়টি বর্তমানে দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা এবং বাংলাদেশে এ-সংক্রান্ত যে আইন রয়েছে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বুধবার ২৩তম আন্তর্জাতিক ও ১৬তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। সব নাগরিকের জন্য সমঅধিকার ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে দেশের সংবিধানে। তবে তা কার্যকর নেই প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে। এমনকি প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৃথিবীতে ৬০ কোটি প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে রয়েছে আনুমানিক ৫৮-৬৩ শতাংশ।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার ১০ শতাংশই প্রতিবন্ধী। তেবে সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।
প্রায় দুই বছর ধরে দেশে প্রতিবন্ধীতা সনাক্তকরণে জরিপ কাজ চলছে। সমাজসেবা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে ২০১৩ এর ১৪ নভেম্বর জরিপ কাজ শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্ত এখানে জরিপের কোনো ধরনের তথ্য বা ডেটা নেই। জরিপ কাজের ফলাফল ঘোষণার জন্য তারিখ পেছাচ্ছে বারবার। আর এই জরিপ কাজ নিয়ে অভিযোগেরও শেষ নেই।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিবন্ধী সন্তানদের জরিপের জন্য তথ্য নেয়ার অনেকটা সময় পার হলেও সঠিকভাবে এখনো কার্যকর করেনি সংশ্লিষ্টরা। মাঠ পর্যায়ের যারা এসেছে- তারা একটি কাগজ দিল এবং বলে গেল দুই মাসের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু প্রায় ছয় মাস হয়ে গেছে তারপরেও কোনো খবর দিতে পারেন্ এছাড়া মাঠ পর্যায়ে যারা এসেছে তারা ২৫০ টাকা করে নিয়েছে।
প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদের (পিএনপিএস) আহ্বিায়ক সালমা মাহবুব জানান, ‘জরিপ কাজটা কেন বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে সেটা আসলে খতিয়ে দেখা দরকার।’ মাঠ পর্যায়ের জরিপকারীর বিরুদ্ধেও রয়েছে অর্থ দাবিসহ নানা অভিযোগ।
তবে এ ব্যাপারে কিছু জানা নেই বলে দাবি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এর ৩৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, গণস্থাপনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রবেশ নিশ্চিতকল্পে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন অ্যাক্ট, ১৯৫২ ও প্রণীত বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। এখানে গণস্থাপনা বলতে সর্বসাধারণ চলাচল করে এমন সব সরকারি-বেসরকারি ভবন, পার্ক, স্টেশন, বন্দর, টার্মিনাল ও সড়ক।
জানা গেছে, সরকার পদক্ষেপ নিয়েছিল প্রায় ১০ হাজার প্রাইমারি ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য স্থাপন করা হবে র্যা ম্প সুবিধা। কিন্তু বিষয়টি পরিকল্পনায়ই সীমাবদ্ধ রয়েছে। কিছু প্রাইমারি স্কুলে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলেও, বিভিন্ন ত্রুটির কারণে তা ব্যবহার উপযোগী নয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বেশির ভাগ বাজার, শপিংমল, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অনেক হাসপাতাল-ক্লিনিক, সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো, রেল বন্দর, বাস টার্মিনালে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোনো অবকাঠামো নেই। ফলে প্রতিবন্ধীদের এ স্থানগুলোয় কোনো কাজে যেতে হলে অন্যের সহায়তা লাগে। সচিবালয়ের কিছু ভবনে প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু ভবনে র্যা ম্প থাকলেও সেটিতে প্রবেশের স্থান গাড়ি ও মোটরসাইকেল দিয়ে আটকানো থাকে।
সচিবালয়ে নিরাপত্তা কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, মূলত শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রবেশপথটি তৈরি করা হয়নি। ফলে কোনো প্রতিবন্ধী দর্শনার্থী এলে তাদের মূল ফটক দিয়েই বিকল্পভাবে প্রবেশ করতে দেয়া হয়।
ন্যাশনাল ফোরাম অব অর্গানাইজেশনের পরিচালক ড. নাফিজ ইমতিয়াজ বলেন, “আমাদের দেশে প্রতিবন্ধীদের জন্য বাজেট রয়েছে, আইন রয়েছে কিন্তু শুধু তদারকির অভাবে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সরকার ১০ হাজার বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধীদের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিলেও, তা বাস্তবায়ন হয়েছে সর্বোচ্চ ১০০টি ভবন নির্মাণে।”
অনেক জায়গায় হুইল চেয়ার চলাচলের র্যা ম্পের আকার ছোট, যা দিয়ে হুইল চেয়ার চলাচল অসম্ভব। এ রকম অনেক ত্রুটি নিয়ে তৈরি হয়েছে ভবনগুলো, যা প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযুক্ত নয় বলেও জানান তিনি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম বলেন, ‘আমরা চাই একটি গ্রহণযোগ্য জরিপ করতে। আশা করি আগামী বছরের জুন-জুলাই মাসের মধ্যে এটা চালু করতে পারবো।’
সমাজকল্যাণ সচিবের মতে, জরিপ হলে প্রতিবন্ধীর ধরন অনুযায়ী তাদের জন্য জাতীয় বাজেটসহ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া সরকারের জন্য সহজ হবে। নতুন বার্তা ডটকম
