বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মাধ্যমে জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে সরকার। এ জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে অভিযোগ রয়েছে তার বিচার হলে মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বিরোধিতাকারী দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরুর পর এ দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি ওঠে।
এ প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিটে গত বছর জামায়াতের নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হয়। রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি আপিল আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর বিদ্যমান ধারা অনুযায়ীই রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের অপরাধের বিচার সম্ভব বলে মনে করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। জামায়াত একাত্তরে যে অপরাধ সংঘটিত করেছে তার জন্য বিশেষ ক্ষমতা বলে দলটি নিষিদ্ধ করা সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, বিদ্যমান আইনের সংশোধনীর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। যে আইন আছে, তাতেই বিচার সম্ভব। জামায়াতের অপরাধ তদন্তের মাধ্যমে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট (বিশেষ ক্ষমতা) প্রয়োগ করেও এ দলটি নিষিদ্ধ করা যায়।
তবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা বাংলানিউজকে বলেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের ব্যানারে ওই দলের নেতারা গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন। জামায়াত এখনও বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায় না। একাত্তরের সংঘটিত অপরাধের জন্য দলটির পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়াও হয়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের যেসব নেতার বিচার হচ্ছে, তারা ব্যক্তিগতভাবে অপরাধের পাশাপাশি জামায়াতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অপরাধ সংঘটিত করেছেন। তারা জামায়াতের পক্ষ হয়েও অপরাধ করেছেন। ব্যক্তির পাশাপাশি দলও সমানভাবে অপরাধী বলে ওই নেতারা মন্তব্য করেন। তাছাড়া বিভিন্ন সময় দেশের মধ্যে জামায়াত সহিংস তাণ্ডব চালিয়ে আসছে।
এসব অপরাধে সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা বলে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সম্ভব। কিন্তু সে ক্ষমতা প্রয়োগ না করে সরকার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দলের বিচারের বিধি সম্বলিত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ সংশোধনী আনা হচ্ছে বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতারা।
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত যে অপরাধ করেছে, তার বিচার হলে শাস্তি হিসেবে এ দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, সরকার আইনি প্রক্রিয়াই অনুসরণ করে চলবে। এটা তো আমরা আগেই বলেছি। বিচার হলে জামায়াত নিষিদ্ধ হতে পারে, দলটির জরিমানা হতে পারে, দলের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
এদিকে রোববার (৭ ডিসেম্বর) এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকরা আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদের আগামী অধিবেশনে এ সংশোধনী তোলা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর আগে চলতি মাসে অথবা জানুয়ারিতে এটি মন্ত্রিসভায় বৈঠকে উঠবে বলেও তিনি জানান।
