জেলা প্রতিনিধি, মংলা (বাগেরহাট) ॥ পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে অর্ধ নিমজ্জিত তেলবাহী ট্যাংকার উদ্ধারে বেসরকারিভাবে কাজ চলছে। তবে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ও নির্ভীক ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছবে বলে বৃহস্পতিবার সকালে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
এদিকে স্থানীয় ডুবুরি দল, কোস্ট গার্ড ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা সকাল থেকে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।
এর আগে বুধবার ভোর ৬টার দিকে বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বিআইডব্লিউটিএর জাহান প্রত্যয় ও নির্ভিক।
মঙ্গলবার ভোরে শ্যালী নদীর মৃগামারী (মংলা) এলাকায় তলা ফেটে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে যায়।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সকাল ১০টা থেকে ট্যাংকারটি উদ্ধারে কাজ শুরু করে ডুবুরি দল, কোস্ট গার্ড ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা। তবে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যেই ট্যাংকারটি থেকে সুন্দরবনের নদী ও খালে ছড়িয়ে পড়েছে তেল। এতে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তা আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়লে বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতী ডলফিনসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু প্রাণিকুলই নয়, জোয়ারে বনের মধ্যে এ দূষিত পানি ঢুকলে বনজ সম্পদেরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ট্যাংকার ডুবির ঘটনার পর এর মাস্টার মোকলেসুর রহমান নিখোঁজ রয়েছেন।
ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স হারুন অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন জানান, মৃগামারী এলাকায় নোঙর করে থাকা তেলবাহী ট্যাংকার ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ কে ধাক্কা দেয় পাশ দিয়ে যাওয়া অপর ট্যাংকার এমটি টোটাল। এ সময়ে তলা ফেটে ট্যাংকার ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ ঘটনাস্থলেই ডুবে যায়। এতে মাস্টার মোকলেসুর রহমান নিখোঁজ হন। ওই ট্যাংকারে থাকা অন্য ৬ জন সাঁতরে কূলে উঠতে সক্ষম হয়।
তেলবাহী ট্যাংকারটি খুলনার পদ্মা ওয়েল কোম্পানি ডিপো থেকে গোপালগঞ্জের একটি পাওয়ার প্লান্টের জ্বালানি তেল নিয়ে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে যাত্রাবিরতি করছিল।
ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটি উদ্ধার ও নিখোঁজদের উদ্ধারে সকাল ১০ টা থেকে স্থানীয় ডুবুরিদল, কোস্ট গার্ড ও বনবিভাগ অভিযান শুরু করেছে। ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটিতে ছিল প্রায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ফারনেস ওয়েল।
