বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাত্র ২১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। রোববার পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়নের সর্বশেষ এই চিত্র প্রকাশ করে।
এতে দেখা গেছে পররাষ্ট্র, সেতু, মুক্তিযুদ্ধ, ক্রীড়া, দুদক, প্রতিরক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয় এডিপি বরাদ্দের একটি টাকাও খরচ করতে পারেনি।
চলতি অর্থবছরের সেতু বিভাগের জন্য মোট এডিপি বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। কিন্তু পাঁচ মাসে একটি টাকাও খরচ করতে পারেনি সেতু বিভাগ। অপরদিকে একই সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও একটি টাকাও খরচ করেনি এই মন্ত্রণালয়।
একই অবস্থা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়েও।২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য এডিপি বরাদ্দ ছিল ২৬৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। কিন্তু এই টাকার মধ্য থেকে কোনো টাকা খরচ করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েও বরাদ্দকৃত ২৭২ কোটি টাকা এখনও রয়েই গেছে। এডিপি বরাদ্দের ১০৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মধ্যে একটি টাকাও খরচ করেনি এই মন্ত্রণালয়। চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে এডিপি বরাদ্দের ২১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এখনও খরচ শুরু করেনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের(দুদক) জন্য এডিপি বরাদ্দ ছিল মাত্র ১ কোটি ৮৪ লাখ। কিন্তু এর মধ্যে থেকে একটি টাকাও খরচ করেনি দুদক।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এডিপি বাস্তবায়নের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, পাঁচ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২১ শতাংশ। এতে বাস্তবায়নকৃত মোট টাকার পরিমাণ ১৫ হাজার ৮৯৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি টাকার পরিমাণ ১০ হাজার ১৫৩ কোটি ৫৯ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ৫ হাজার ৭৪৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
অথচ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে মোট এডিপি বরাদ্দ ছিল ৭৫ হাজার ৮১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের ৪৯ হাজার ৭০ কোটি ৮৩ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ২৬ হাজার ৭৪৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে এডিপি বাস্তবায়নে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। দশ শতাংশের নিচে অবস্থানকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ৪ শতাংশ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ২ শতাংশ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ শতাংশ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১ দশমিক ৭ শতাংশ, ভূমি মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ, বাস্তবায়ন পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে ২০৯ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দের মধ্যে বাস্তবায়ন মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দের মধ্যে খরচ হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
ভূমি মন্ত্রণালয়েও এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গেছে। ১৩৯ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দের মধ্যে খরচ হয়েছে মাত্র ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ। পাঁচ মাসে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এডিপি বাস্তবায়ন ২ শতাংশ। অথচ এই মন্ত্রণালয়ে এডিপি বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৭২২ কোটি টাকা।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও ৫১৩ কোটি টাকা এডিপি বরাদ্দের মধ্যে খরচ হয়েছে চার শতাংশ। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে মোট এডিপি বরাদ্দ ছিল ৪৩২ কোটি টাকা।
তবে কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পাঁচ মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ভালো সাফল্য দেখিয়েছে যেমন, আইন ও বিচার বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জাহিদ বখত বাংলানিউজকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাব ও জমি অধিগ্রহণের সমস্যা থাকায় এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি হয়। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনও এডিপি বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টি করে।’
তিনি আরো বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বিরোধের কারণেও এডিপি বাস্তবায়ন স্থবিরতা দেখা দেয়। অনেক সময় মন্ত্রণালয়গুলো চিঠি চালাচালি করে সময়ক্ষেপণ করে অথচ বিরোধ মেটে না’।
এই বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থবছরের শুরু থেকে তিন চার মাসে টাকা খরচ তেমন একটা হয় না। তবে এখন থেকে খরচ শুরু হবে। আমরা আশা করছি এবারও অর্থবছর শেষে এডিপি’র ভালো একটা বাস্তবায়ন করবো। তবে আগামী অর্থবছরে ভিন্ন মাত্রায় এডিপি বাস্তবায়ন করা হবে। যেন এডিপি বাস্তবায়নে গতি পায়। দরকার হলে এডিপি বাস্তবায়নের জন্য সাংবাদিকদেরও মতামত নেওয়া হবে।’ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
