Skip to content

কঠোর নজরদারির আওতায় এবার বিমানবন্দর কার্গো এলাকা

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: কঠোর নজরদারীর আওতায় আনা হয়েছে বিমানবন্দরে কার্গো এরিয়াকে। এয়ার কার্গো এলাকায় এর আগে তেমন নজরদারি না থাকলেও বর্তমানে তিনজন কর্মকর্তা ২৪ ঘণ্টা নজরদারী করছেন। বিশেষ করে গত ১০ ডিসেম্বর গার্মেন্ট একসেসোরিজের কার্টনের ভেতর থেকে ৪৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের পর কার্গোকে ঘিরে স্বর্ণ পাচারের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এতে করে কর্মকর্তাদের টনক নড়ে। এরপরই কার্গো এরিয়াকে বিশেষ নিরাপত্তা নজরদারির আওতায় আনার বিষয়টি সামনে চলে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চোরাচালানের নিত্য নতুন কৌশল হিসেবে স্বর্ণ চোরাকারবারীরা কার্গো এলাকাকেও ব্যবহার করতে শুরু করে। তারা বিভিন্ন পণ্য আমদানির নামে কৌশলে স্বর্ণ নিয়ে এসে এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহযোগিতায় তা পাচার করতো। বিষয়টি মুখে মুখে চাউড় থাকলেও ১০ ডিসেম্বর তারিখে তা বাস্তবে প্রমাণিত হয়। তখন ৪৩ কেজির একটি বড় চালান উদ্ধার হয়। ইউনিটেক্স নামের এক গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে শার্টের বোতাম, গ্রিপার অন্যান্য পন্যের আড়ালে বিশেষ কায়দায় এই স্বর্ণ সিঙ্গাপুর থেকে আনা হয়। কাস্টম গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা গোপনে খবর পেয়ে ওই স্বর্ণ উদ্ধার করেন। এর আগে এয়ার ফ্রেইটেই কম্পিউটারের মনিটর আমদানির আড়ালে এলইডি টেলিভিশন আনার সময় ধরা পড়ার ঘটনা রয়েছে। তাছাড়া আমদানি করা পণ্যের ভেতর থেকে অবৈধভাবে সিগারেট আনার ও তা উদ্ধার ঘটনা তো হামেশাই ঘটে থাকে।

কাস্টম গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, এয়ার ফ্রেইটকে দীর্ঘদিন আমরা নজরদারির মধ্যে রাখলেও এখান থেকে স্বর্ণ উদ্ধার সম্ভব হয়নি। অবশেষে নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যে আমরা সেগুলো উদ্ধার করি।

তিনি বলেন, এখন এটা প্রমাণিত যে চোরাকারবারীরা এয়ার ফ্রেইট দিয়েও স্বর্ণ পাচার করেছে। ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়ে বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে তারা এই কাজ করেছে।
ইরসধহথকধৎমড়থ১
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা এয়ার কার্গোকে নজরদারির মধ্যে রেখেছি।

কাস্টম সূত্র জানায়, ৪৩ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের পর এয়ার কার্গো সাইটকে পূর্ণ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি পণ্যের তালিকা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাত এবং দিনে ফ্রেইট, প্রিভেনটিভ এবং বিমানবন্দর কাস্টমস এই তিন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

ঢাকা কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার (প্রিভেনটিভ) রুহুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, পুরো এয়ার ফ্রেইটকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা কাজ শুরু করেছি।

তিনি বলেন, কার্গো ছাড়াও যাত্রীবাহী বিমানেও অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের পণ্য আসে। আমরা প্রতিটি কার্গো ভালোভাবে পরখ ও পরীক্ষা করে দেখছি। সন্দেহ হলেই খুলে বের করা হচ্ছে।

এই কাস্টম কর্মকর্তা বলেন, স্বর্ণ ছাড়াও চোরাকারবারীরা যাতে কোনো ধরনেরই চোরাচালান পণ্য আনতে না পারে সেজন্য সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন শিমুল বাংলানিউজকে বলেন, কার্গো ও হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে যে স্বর্ণ পাচার হতো এটা এখন প্রমাণিত সত্য। বিশেষ করে হ্যাঙ্গার গেটে ভেইকল স্ক্যানার না থাকার কারণে এক শ্রেণির কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরে বিশেষ কায়দায় স্বর্ণ রেখে তা বাহির করতেন। আমরা একবার প্রায় ১২ কেজি স্বর্ণসহ একজনকে আটকও করি। এরপরও ওই এলাকায় তেমন কোনো নজরদারির ব্যবস্থা তখন করা হয়নি।

তিনি বলেন, বৈধ আমদাণি পণ্যের আড়ালেও যে স্বর্ণ পাচার হয় এটা এখন প্রমাণিত। ওই এলাকায় সব সংস্থাই এখন নজরদারি বাড়িয়েছে। আমরাও আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছি। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫