স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘ফুল চাষেই জীবিকা, ফুলের দাম কম ওইলে চলুম ক্যামনে, বিজয় দিবস গেল মানুষ ফুলই কিনে না’ এমনভাবে নিজের ভাব প্রকাশ করলেন সাভারের বিরুলিয়ার কুমার খোদা এলাকার গোলাপ চাষী সবুর উদ্দিন।
তিনি ৫০ শতাংশ জমির ওপর চাষ করেছেন উন্নত জাতের লাল গোলাপ। ক্ষেতে ফুলের ভালো ফলনও হয়েছে। কিন্তু ফুলের বাজার ভালো না হওয়ার চরম হতাশায় তিনি।ফুল চাষেই চলে তার পাঁচ সদস্যের পরিবার।
তিনি বলেন, এইডা আমাদের শীত কালের ফসল, শীত গেলেই আর ফুল ওইবো না। দাম বারলে তো ভাল কিছুটা ওইলেও বাঁচা যাবে।
শীতকালেই আমাদের দেশে ফুলের চাষ ভালো হয়। আর এসময়ে আমাদের দেশের কিছুসংখ্যক কৃষক ফুল চাষকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।
সাভারের কুমারখোদার কিছু চাষী প্রতি বছরই ফুল চাষ করেন। ফুল চাষ করে তাদের জীবিকা চলে তাদের।
গোলাপ চাষের জন্য দরকার হয় উঁচু ভূমির। যেখানে বর্ষার পানি উঠে না। কারণ গোলাপের ডাল রোপণ করতে হয় বর্ষাকালে। দীর্ঘ দিন যতœ করার পর খেতে ফুল দেখা দেয় শীতের শুরুতে।
পঞ্চাশ শতক জমিতে গোলাপ চাষে খরচ হেয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। নিয়মিত পানি, সার, কিটনাশক প্রয়োগ না করলে ফুলের ফলন কমে যায়। দাম কম হলেও কিছু করার নেই নিয়মিত যতœ করতেই হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আয়ুব নামের এক তরুন ফুল চাষিকে ক্ষেতে ফুল তুলতে। তার ক্ষেতেও এবছর ফুলের ফলন ভালো।বিজয় দিবসে ভালো দাম না পেলেও সামনে ১৪ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ মার্চে ভালো দাম পাবে আশা তার।
এদিকে ফুল চাষে অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন একাধিক কৃষক। তারা বলেন, আমাদের দেশ ফুল চাষের জন্য ভালো উপযোগী। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশে ফুল রফতানি করলে এ ক্ষেত্র থেকেও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে বলে মনে করেন তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, ফুলের বাজার কম কারণ এখন ফুলের মওসুম বাজারে বিক্রেতা বেশি ভোক্তা কম। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে তাৎক্ষণিক আমাদের কিছুই করার নেই। তবে ফুল চাষের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সবধরনের সাহায্য আমাদের পক্ষ থেকে দেয়া হবে।
এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যেই আমাদের দেশ থেকে বিশ্বের কয়েকটি দেশে ফুল রফতানি হচ্ছে।আমরা আশা করছি বিশে^ দ্রুত, আমাদের দেশের ফুলের ভালো বাজার তৈরি হবে।
তিনি আরো বলেন, ফুল চাষে কৃষকদের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও অপার সম্ভাবনা দেখছি।
