Skip to content

অপরাধীদের ছদ্মনামে বিভ্রান্ত পুলিশ

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: চট্টগ্রামের বাসিন্দা জাহেদকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশের বলে, তিনি অনেকদিন ধরেই একটি মাদক মামলার আসামী। অথচ সদ্য মধ্যপ্রাচ্য ফেরত জাহেদের দাবি-তিনি নির্দোষ।

সামান্য তদন্তেই বের হয়ে আসে, জাহেদের ভাই সেলিম ২০১৩ সালে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার হয়, জামিনে মুক্তি পাওয়া মাত্র সে পালিয়ে যায়। তার পরিবর্তে ভুল করে এক বছর পর গ্রেফতার করা হয় জাহেদকে।
চট্টগ্রামের অন্য একটি হত্যা মামলায় পুলিশ জনৈক আবুল হোসেনকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল, ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর তাকে খুঁজে পাওয়া যায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে। তিনি সজীব ছদ্মনাম নিয়ে তিনটি সাধারণ অভিযোগে কারারুদ্ধ হয়ে আত্মগোপন করেছিলেন।
ছদ্মনাম ব্যবহার করে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়া ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। গুরুতর অপরাধ করে সহজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায়, গত এক বছরে এ ধরনের ৭৫টি মামলা পাওয়া গেছে, পুলিশের ধারণা আরও অনেক মামলাই চিহ্নিত করা যাবে যেখানে এভাবে আত্মগোপন করে আছে অভিযুক্তরা।
অপরাধীরা এক এলাকায় কোনও অপরাধ করে পালিয়ে অন্য এলাকায় গিয়ে পরবর্তী গ্রেফতারের সময় নামসহ সমস্ত তথ্যই ভুল দিচ্ছে। জামিন পেয়ে আবারও পালিয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় বাস্তব কোন মানুষের নাম পরিচয়ও ব্যবহার করছে তারা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার বলেন, “ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্টে অভিযুক্তের ছবি ব্যবহৃত হয় না বলে অপরাধীরা বার বার এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে।”
সূত্র জানায়, এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে অনেক সময় নির্দোষ ব্যক্তিরা সাজা পাচ্ছেন, আড়ালে থেকে যাচ্ছেন সত্যিকার অপরাধী।
চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার সাব ইন্সপেক্টর জহির হোসেন বলেন, “এমন অনেক অপরাধী আছেন যারা অন্য নাম নিয়ে কারাগারেই আছেন, তাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
সূত্র জানায়, এভাবে নাম পাল্টানোর প্রবণতা প্রথম লক্ষ্য করা যায় ২০০৮ সালে, কক্সবাজারে। এর পর পুলিশের প্রধান কার্যালয়ে অপরাধীদের তদন্ত তথ্যে ছবি সংযুক্ত করার আবেদন করা হয়, কিন্তু তার প্রচলন করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে অপরাধীদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার কাজ চলছে। এর ফলে এই সমস্যা সমাধান করা যাবে বলেও আশা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর এই তথ্যভাণ্ডার উদ্বোধন করেন। ক্রিমিনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নামের এই তথ্যভাণ্ডারে অপরাধীদের আঙুলের ছাপ ও চোখের রেটিনা স্ক্যান করে যুক্ত করা হবে। এ কাজ শেষ হলে ৪০ হাজার অপরাধী সম্পর্কে যে কোনও বিষয়ে সহজেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম ডেস্ক

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫