বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: মানবপাচারের অভিযোগে হজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এবং আরো ৭ নেতার প্রতিষ্ঠানসহ ৫০ ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করেছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের হজ কাউন্সিলর।
ধর্মসচিবের কাছে পাঠানো সুপারিশে পাচার হওয়া ৪ হাজার ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে চাপ প্রয়োগেরও অনুরোধ জানান কাউন্সিলর মো. আসাদুজ্জামান।
ধর্মসচিবের কাছে পাঠানো চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সৌদি আরবের রিয়াদ দূতাবাস, জেদ্দার কনসাল জেনারেল, হজ পরিচালক এবং ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়।
সৌদি আরব থেকে পাঠানো গত ২৫ মে স্বাক্ষরিত ওই চিঠির সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ওমরাহ মৌসুমে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাওয়া ৪ হাজার ব্যক্তি ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরেননি। ওমরাহ ভিসা চালু হওয়ার তিন-চার মাসের মধ্যে এ ধরনের ঘটনায় সৌদি হজ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশিদের জন্য ওমরাহ ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় এজেন্সিগুলো অন্যদেশ থেকেও ওমরাহ হজযাত্রী আনা-নেওয়া করতে পারছে না। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তারা।
চিঠিতে বলা হয়, যেসব ট্রাভেল এজেন্সি মনবপাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে শুধু বর্তমান মৌসুম নয়, আগামীতেও বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ পালনে আগ্রহী ব্যক্তিদের ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
চিঠির সুপারিশে কাউন্সিলর জানান, ওমরাহের নামে পাচার করা ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পাচারকারী এজেন্সির। তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে পাচার হওয়াদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজটি সহজ হবে।
ধর্মসচিবের কাছে পাঠানো চিঠি এবং তালিকা থেকে জানা গেছে, হাবের সভাপতি মো. ইব্রাহিম বাহারের মালিকাধীন এজেন্সি মেগাটপ ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল (প্রা.) লিমিটেড, সিনিয়র সহ সভাপতি মো. হেলালের মুনা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, সহ সভাপতি ফরিদ আহমদ মজুমদারের গোল্ডেন বেঙ্গল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং যুগ্ম মহাসচিব মোজাম্মেল হোসেন কামালের হাসিম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল মানবপাচার করেছে।
মানবপাচারকারী হিসেবে অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছেন হাবের নির্বাহী সদস্য এন এম এইচ খাদেম দুলালের খাদেম এয়ার সার্ভিস, আবু বকর সিদ্দিকীর আল নূর ইন্টারন্যাশনাল, আবুল মালেকের সবুজ বাংলা ইন্টারন্যাশনাল, হাব চট্টগ্রমের সহ সভাপতি মো. ইলিয়াসের গোল্ডেন বেঙ্গল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এবং হাব সভাপতির জামাতা হাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থসচিব মাহবুব মান্নানের টাইমস এভিয়েশন।
মানবপাচারে অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যান্য এজন্সিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কুমিল্লা ট্রাভেলস, কানিজ ট্রাভেলস, জেমিনি ট্রাভেলস লি., রওশান ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল, শরিফ এয়ার সার্ভিস লি., ফ্লাই হোম, হাসিম ওভারসিজ, থ্রি-স্টার ট্রাভেলস, আনজাম এয়ার ট্রাভেলস, ইস্টার্ন ট্রাভেলস, ফারহান এভিয়েশন সার্ভিস, হাসিম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, কে এস পি ট্রাভেলস, লর্ড ট্রাভেলস, মদিনা এয়ার ট্রাভেলস লিমিটেড, মিমস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লি., রাজশাহী ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, গালফ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, আলহাজ ট্রাভেলস ট্রেড, রয়েল এয়ার সার্ভিসেস সিস্টেম, এয়ার এক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনাল, আভিয়া ওভারসিজ লি., বাংলাদেশ ওভারসিজ সার্ভিসেস, কনকর্ড ইন্টারন্যাশনাল, লাব্বাইক ওভারসিজ লি., এম এম আর এভিয়েশন (প্রা.) লি., এমপি ট্রাভেলস লিমিটেড, মারুফ ট্রাভেলস, পারাবত ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লি., রব্বানী ওভারসিজ, ইউনাইটেড স্টারস ট্যুরস, উইংস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লি., ওয়েসিস এয়ার সার্ভিসেস, সিটি নিয়ন ট্রাভেলস, মল্লিক টাভেলস, এডমাইর এয়ার ট্রাভেলস, ইজি ওয়ে ট্রাভেলস, পারপল এভিয়েশন সিস্টেমস, মাসুদ ট্রাভেলস, টপকন ওভারসিজ লিমিটেড এবং এভারগ্রিন ট্রাভেলস।
এছাড়া মানবপাচারে জড়িত সৌদি আরবে অবস্থিত দাল্লাহ জেনারেল সার্ভিস কোং, আল-মুসালি ওমরা ইস্ট, মুতলাক আল-হারবি লাইবলিটি কোং, ফায়েজ ট্রেডিং অ্যান্ড সার্ভিস কোং এবং শায়ের ট্যুর ডেভেলপমেন্ট ইংক (রহপ) এজেন্সির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি সরকার।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, আরো প্রায় ৪০টির মতো এজেন্সির বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ রয়েছে। তাদের তালিকাও শিগগিরই পাঠিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
