বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: সমুদ্রপথে পাচারের সময় উদ্ধার হওয়া মানুষের মধ্যে ৭০০ জন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সোমবার ১৫০ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মাধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের তিনজন রয়েছে। চার দেশের তরফ থেকে ১ হাজার ৪৬৬ জনের দেয়া তালিকা এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। তাদের মধ্যে অনেকের নাম ঠিকানা ঠিকমতো পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন দালাল রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে গোয়েন্দারা। এসব দালালরা রেহাই পাওয়ার জন্য নিজেরাও ভুক্তভোগী সাজার চেষ্টা করছেন।
পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার আটটি দল নামের তালিকা ধরে অনুসন্ধান করছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৪৬৬ জনের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ইন্দোনেশিয়া ৯০৮ জন, মালয়েশিয়া ৩০৩ জন, থাইল্যান্ড ৫৫ ও মিয়ানমার ২০০ জনের নামের তালিকা পাঠিয়েছে। ওই তালিকা পাওয়ার পর পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয় তাদের পরিচয় যাছাই করে দেখার জন্য। এর মধ্যে সোমবার পর্যন্ত ৭০০ জনের মতো ব্যক্তির পরিচয় যাচাই শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, যাদের মধ্যে ফেরত আনা ১৫০ জনের নামও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বাংলামেইলকে জানান, পরিচয় নিশ্চিত হওয়া বেশিরভাগই দেশের বিভিন্ন জেলার চর অঞ্চলের মানুষ। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ, কক্সবাজার, নরসিংদী, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাও রয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জের যাদেরকে পাওয়া গেছে তারা সেখানকার স্থানীয় নয়। তারা বিভিন্ন জেলা থেকে এসে বসতি গেড়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও তেমন কিছু করতে না পেরে টাকা উপার্জনের জন্য অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার চিন্তা করছিলেন।
সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে যাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাদেরকে তিনদিন পুলিশের হেফাজতে রাখা হবে। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ও ভবিষ্যতে যেন আর কখনো এই ধরনের কাজের সঙ্গে না জড়ায় তেমন কাউন্সেলিং করে বিদায় করা হবে।
এছাড়া প্রত্যেককে আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা হবে কোন দালালের মাধ্যমে তারা সাগর পথে মালয়েশিয়ায় রওনা হয়েছিল।
নৌকা থেকে উদ্ধার হওয়াদের মধ্যেও দালাল রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে। এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দালাল হিসেবে যাদের নাম বেরিয়ে আসবে তাদের আটক করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সূত্রমতে, ট্রলারে করে যাদেরকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাদের মধ্যে দালালও রয়েছে। যখন তাদেরকে সম্প্রতি মিয়ানমার নৌ-বাহিনী উদ্ধার করেছে তখন দালালরাও ‘ভিকটিম’ সেজে গেছে। এ কারণে খুব ভালো করে যাচাই-বাছাই করে ভিকটিম ও দালালদের আলাদা করা হবে। বাংলামেইল২৪ডটকম
