Skip to content

নিবন্ধন ফাঁকি দিয়ে নম্বর প্লেটে পদবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: নম্বরপ্লেটবিহীন ও কাগজপত্র ছাড়া চলাচলকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযানে শরু হয়েছিল গত ৩ জুন। অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমেও পাঠায় মহানগর পুলিশ। জানা যায়, নম্বর প্লেটে পেশা ও পদবী লেখা রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলের বেশিরভাগই ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে। ছিনতাই, হামলা, সংঘর্ষে সন্ত্রাসী ও অপরাধীরা এ সকল মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে চালানো নাশকতাগুলোতেও এসব মোটর সাইকেলের ব্যবহার করা হয়।

পুলিশ বলেছে, রেজিস্ট্রেশন ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বেশ কিছু মোটরসাইকেল নগরীতে অবৈধভাবে চলাচল করছে। মোটরযান অধ্যাদেশের আওতায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনী। মোটর সাইকেল মালিক ও চালকদের গত ২ জুনের মধ্যে বিআরটিএ অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সাথে মোটরসাইকেল বিক্রয়কারী এজেন্ট ও ডিলারদেরকে ক্রেতার নিকট মোটরসাইকেল হস্তান্তরের পূর্বেই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। জানা গেছে ৪০ ভাগ মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
দেশের বিভিন্ন সড়কে চলছে বিপুলসংখ্যক অবৈধ মোটরসাইকেল। ফুটপাত দিয়ে চলাচলে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছে না চালকরা। এসব মোটরসাইকেলের কোনো কোনোটির নম্বর প্লেটে নিবন্ধন নম্বরের স্থানে লেখা থাকে ডাক্তার, অ্যাডভোকেট, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ, ইমাম সাহেব, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, জরুরি ডিস, জরুরি বিদ্যুৎ, গ্রাম পুলিশ। কোনো কোনোটিতে আবার পুলিশ, ছাত্রলীগ, সাংবাদিক। এসব পদবি যাদের নেই, তারা লিখেছেন প্রক্রিয়াধীন, অন টেস্ট অথবা আবেদিত। মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানিরা, চাঁদাবাজরা অনেক সময় নম্বর প্লেটে ব্যবহার করে পুলিশ বা সাংবাদিক লিখে চাঁদাবাজি করছে।
বিষয়টি নজরদারির কোনো তৎপরতা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই। বিশেষ কোনো দিন বা বিশেষ কোনো অভিযান ছাড়া পুলিশকে নিয়মিত নিবন্ধন নম্বর পরীক্ষা করতে দেখা যায় না। অবৈধ কাগজপত্র ছাড়া ধরলেও টাকার বিনিমিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকায় মোটরসাইকেল কিনলেও ১৫-১৬ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন করতে রাজি নন চালকরা। নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় নামা নিষেধ।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘প্রায় এক বছর হলো মোটরসাইকেল কিনেছি। আজ পর্যন্ত পুলিশ নিবন্ধন বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে চায়নি। তাই এগুলো করারও প্রয়োজন মনে করিনি।’ ১৩ বছর ধরে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন আবদুর কাদের। ড্রাইভিং লাইসেন্সের কথা জিজ্ঞেস করতেই পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স আবার সহজে পাওয়া যায় নাকি?’ অনেকে আবার নিবন্ধন ফাঁকি দেয়ার জন্য এসব নম্বর প্লেটে করেন বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ। এতে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫