Skip to content

মিয়ানমারে এখানো আটক ৫ শতাধিক বাংলাদেশি

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় গণকবর আর বন্দীশালার সন্ধান লাভের পর শত শত বাংলাদেশি অভিবাসী নিয়ে বেকায়দায় পড়ে মানবপাচারকারীরা। অভিবাসীদের মালয়েশিয়ায় পাঠাতে না পেরে গভীর সাগরে আটকে রেখেই তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ মুক্তিপণ আদায় করে সঙ্ঘবদ্ধ পাচারকারীরা। বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়ার নামে এই মুক্তিপণ আদায় করা হয় বলে সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা ৩৭ বাংলাদেশি অভিবাসীর কেউ কেউ এ কথা জানিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, মিয়ানমারের ক্যাম্পে এখনো আটক রয়েছেন পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি অভিবাসী।
২০ জুন মিয়ানমার থেকে ফেরত আসা বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার আবদুর রশিদ জানিয়েছেন, মালয়েশিযা যাওয়ার সময় মিয়ানমার নৌবাহিনী বঙ্গোপসাগর থেকে তিনিসহ ২০০ জনকে আটক করে একটি ক্যাম্পে রাখে। বাংলাদেশের সাথে আলোচনার পর তাদের সাথে থাকা দেড় শ’ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠায় মিয়ানমার। ২০ জুন পাঠানো হয়েছে ৩৭ জনকে। তাদের সাথে আটক হওয়া আরো ১৩ বাংলাদেশী মিয়ানমারের ক্যাম্পে আছে। আবদুর রশিদ আরো জানিয়েছেন, তাদের আটকের এক সপ্তাহ পরই আরো ৮০০ মালয়েশিয়াগামীকে আটক করে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী। তাদের মধ্যে ৫৫৩ জন বাংলাদেশী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু সংবাদও তারা পেয়েছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পে রাখার কারণে এ সংবাদ পেয়েছেন বলে জানান আবদুর রশিদ।
পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে প্রায় তিন মাস সাগরে ভাসমান ছিল বাংলাদেশের এই কিশোর-যুবকেরা। ফিরে আসা অভিবাসীর মধ্যে কিশোরগঞ্জের সবুজ মিয়ার সাথে কথা হয়। তিনি অষ্টগ্রাম উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের মো: কালামিয়ার ছেলে। সবুজ বলেন, এলাকার এক দালালের মাধ্যামে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যেতে গিয়ে জীবনটাই হারিয়ে যাচ্ছিল। কেউ যেন আমার মতো এমন ভুল পথে পা না বাড়ায়। নিশ্চিত মৃত্যুর দুয়ার থেকে যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। বাবা মায়ের কাছে ফিরতে পারছি, এটাই স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মোহাম্মদ শামীম জানান, তিনি এলাকায় দিনমজুরি করতেন। এলাকার এক দালাল মালয়েশিয়া গিয়ে প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা রোজগারের প্রলোভন দেখাত। একদিন কাউকে না জানিয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। দালাল তাকে কক্সবাজারে নিয়ে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ার পথে পাচার করে। শামীম জানান, ট্রলারে জিম্মি করে দালালরা মুক্তিপণের জন্য নির্মম নির্যাতন চালাত। অনাহারে-অর্ধাহারে তিন মাস পর্যন্ত তারা সাগরে ভাসমান ছিলেন। এমনকি ওই অবস্থায় দালালরা তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণও আদায় করেছে। তারপরও এখন বাড়ি ফিরতে পেরে খুশি তিনি। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানান, জেলা প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে মিয়ানমার ফেরত এ ৩৭ জনের কাছ থেকে পাচার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা।
গত ৮ ও ১৯ জুন দু’পর্যায়ে কক্সবাজাররের ঘুনধুম সীমান্ত দিয়ে ১৮৭ জন অভিবাসী বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় এসব অভিবাসীকে বিভিন্ন জেলায় স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেয় বিজিবি এবং কক্সবাজারের জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। ফিরে আসা এসব অভিবাসীকে পাচারের অভিযোগে দেশের সংশ্লিষ্ট থানায় পাচারকারীদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামলকান্তি নাথ জানান, ইতোমধ্যে অনেক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫