বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
সারিয়াকান্দি (বগুড়া): বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে পানি কমতে থাকায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলা কুতুবপুর ইউনিয়নের ধলিরকান্দি গ্রাম থেকে কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীপাড়ের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
নদী ভাঙনে ৪৩ নম্বর কর্নিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪২নম্বর নিজ কর্নিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি হুমকিতে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বিদ্যালয়টি।
গত দুই সপ্তাহে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে উপজেলা কামালপুর, চন্দনবাইশা, কুতুবপুর ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, শত শত একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙনে চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকায় এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত পাকা রাস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
কুতুবপুর ইউনিয়নের ৪২নম্বর নিজ কর্নিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দৌলতুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, যমুনার অব্যাহত ভাঙনে যে কোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এবিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, ৪২ নম্বর নিজ কর্নিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়টি নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় সেটি পাশের স্থানে সরিয়ে নিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গাজীউল ইসলাম গাজী বাংলানিউজকে জানান, এক সপ্তাহে ধলিরকান্দি ও বয়রাকান্দি গ্রামের গ্রামে নদী ভাঙনে শতাধিক পরিবার তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়াও শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
যমুনার তীব্র ভাঙনে চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারী, শেখপাড়া, আটাচর, কামালপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ, দড়িপাড়া, গোদাখালী, ইছামারা এলাকার গ্রামবাসী আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সারিয়াকান্দির উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল মোত্তালেব নদী ভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে বাংলানিউজকে বলেন, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন হলেই নদী ভাঙনরোধে প্রয়োজননীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
