বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: শামিয়ানা টানানো। তার নিচে অনেকগুলো গ্রুপ তাস খেলায় মত্ত। আবার তার পাশেই মাটিতে পত্রিকা বিছিয়ে কেউ কেউ অঘোর নিদ্রায়।
বৃহস্পতিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে গাবতলী বালুর মাঠে হানিফ এন্টারপ্রাইজের টিকেট কাউন্টারের সামনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এখান থেকে সকালে হানিফ এন্টারপ্রাইজের ঈদের অগ্রিম টিকেট ছাড়া হবে। সে কারণে এরা সকলেই এসেছেন ঈদে বাড়ি ফেরার অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করতে। লাইনের প্রথম দিকে থেকে নিজের টিকেট নিশ্চিত করতে এত অগ্রিম আসা তাদের।
সব মিলিয়ে লোক সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি হবে। তাদের কারো মধ্যেই নেই ক্লান্তির ছাপ। খানিকটা মেলার আমেজ সবার মধ্যে। নরম বিছানা ছেড়ে মাটির উপর শুধু পেপার বিছিয়ে শুয়েছেন তাতেও বুঝি মহাশান্তি!
আবার এদের মধ্যেই কেউ কেউ স্ব-উদ্যোগী হয়ে তালিকা করছেন। কে আগে এসেছেন? কার সিরিয়াল নম্বর কত ? সকালে সেই সিরিয়াল অনুযায়ী লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই টিকেট সংগ্রহ করবে।
লম্বা কাগজে সিরিয়াল তুলছিলেন রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক। তিনি নিজেও বাড়ি ফেরার জন্য টিকেট সংগ্রহ করতে এসেছেন।
মঞ্জুরুল হক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় এসেছেন টিকেট কাউন্টারে। তিনি বাংলানিউজকে জানান, সারা রাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর তাই কাগজে সিরিয়াল করা হচ্ছে। সকালে সিরিয়াল অনুযায়ী লাইনে দাঁড়াবেন। এখন যে যার মতো আড্ডা দিচ্ছে। কেউ তাস খেলছে।
মঞ্জুরুল হক জানান, গত ঈদেও তিনি এইভাবে সিরিয়াল করেছিলেন স্ব-উদ্যোগে। এতে কোন ঝামেলা হয়নি লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে। এর আগের বছরগুলো লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছিলো। এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিলো। তাই তারা গত ঈদ থেকে এইভাবে তালিকা করেন।
প্রত্যেক এলাকার জন্য আলাদা আলাদা তালিকা করা হচ্ছে। রাত আড়াইটা পর্যন্ত কুড়িগ্রামের তালিকায় ৮৫ জন, দিনাজপুরের তালিকায় ৯৮ জন ও রংপুরের তালিকায় ৭৫জন নাম লিখিয়েছে বলে জানান তিনি।
গার্মেন্টস কর্মী রেজাউল ইসলাম (কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা) জানান, রাত ৮ টায় এসে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তার সিরিয়াল পড়েছে ১৪ নম্বরে। এতেই খুশিতে গদগদ,যেন টিকেট হাতে পেয়ে গেছেন।
রেজাউল ইসলাম গত ঈদেও বাড়ি গিয়েছিলেন। বাবা-মায়ের সঙ্গে ছাড়া ঈদ করার কথা চিন্তা করতেও মন চায় না বলে জানান তিনি।
রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রথম দিনে টিকেট না নিলে পরে বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়। পরে সব টিকেট চলে যায় কালোবাজারিদের হাতে। তাই প্রতিবার প্রথম দিনেই টিকেট সংগ্রহ করেন তিনি। পরে কিনলে একটি টিকেটে ৩’শ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হয় বলে জানান তিনি।
‘রাত জাগতে খারাপ লাগে কি-না’। এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সব বন্ধুরা মিলে এসেছি। ভালোই লাগছে। অনেক দিন একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া হয় না।’
কাহারোল উপজেলার চার বন্ধু এসেছেন টিকেট নিতে। কাউন্টারের ঠিক সামনে একটি বাল্বের নিচে পেপার বিছিয়ে চুটিয়ে তাস পিটাচ্ছেন। কথা বলবার মতো ফুরসত নেই তাদের। একজন বলে উঠলেন, ‘কতদিন বন্ধুরা একসঙ্গে খেলিনা।’
মশা যাতে ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য কয়েলও জ্বালানো হয়েছে একাধিক। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
