বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: খেলা ভাঙার খেলা। অশ্বিনীকে দেখে গানটি লেখা হয়নি ঠিকই, তবে অশ্বিনীদের জন্যই যে লেখা হয়েছে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। উপমহাদেশের বুকে দাঁড়িয়ে সমাজের তথাকথিত চিন্তাধারাকেও সমানে আঘাত করে চলেছেন তিনি। একটা বদ্ধমূল ধরণা রয়েছে, বডিবিল্ডিং শুধুমাত্র পুরুষদের খেলা। সেই খেলাকেই ভেঙে ফেলেছেন তিনি। ভারতের প্রথম মহিলা বডিবিল্ডার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছেন অশ্বিনী। ৩২ বছর বয়সি অশ্বিনী এই খেলাকে আপন করতে মোটা মাইনের সরকারি চাকরিও ছেড়ে দিয়েছেন। প্রথাগতকে বোধহয় ঠিক পছন্দ নয় তাঁর।
এই তো বছর খানেক আগেকার কথা। নিজের শরীর নিয়ে বেশ অখুশিই ছিলেন তিনি। অফিস আর বাড়ি, এই করেই কেটে যাচ্ছিল জীবন। নিশ্চিন্ত জীবনে নিশ্চিন্তে বাড়ছিল মেদও। সেই বাড়তি মেদ জরাতে চলে যান জিমে। সেখানে গিয়েই ঘটে যায় বিপ্লব। ভালোবেসে ফেলেন বারবেল, ডাম্বেলগুলোকে। ক্রমাগত শরীরের নিয়ম মেনে বাড়াতে থাকেন ওজন তোলার মাত্রাও। সঙ্গে চলতে থাকে হাই-প্রোটিন ডায়েট। বছর খানেকের মধ্যেই আজকের অশ্বিনী দেখা দেন।
অশ্বিনী বলেন, এখানে ছোট পোশাক পরতে হয় বলে অনেকেই ভ্রূ কোঁচকান। নাক সিটকোন। তবে আমি জোর দিয়ে বলছি, বিকিনি পরলেও সম্মান বাড়বে বই কমবে না। সঙ্গে দেশের সম্মানও বাড়ানোর সুযোগ থাকবে। বর্তমানে নিজেই ট্রেনিং দেন। তিনি চান এই খেলার আরও বেশি করে মেয়েরা আসুক। অশ্বিনী এখনও বিয়ে করেননি। তিনি চান তাঁকে স্ত্রী হিসাবে যেই গ্রহণ করবেন, তিনি যেন তাঁর এই খেলাকেও গ্রহণ করেন। মুক্তমনা পুরুষকেই সঙ্গী হিসাবে পছন্দ তাঁর। তিনি বলেন, ভারতী মহিলা হিসাবে গর্ব করি। মুক্তমনা একজন পুরুষকেই স্বামী হিসাবে গ্রহণ করতে পছন্দ করব।
