Skip to content

ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥

কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া সবকটি ট্রেনেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের ভেতরে তো পা ফেলার জায়গা নেই-ই, ছাদ, ইঞ্জিন, দুবগির সংযোগস্থল- কোথাও ফাঁকা নেই। সোমবার রাজধানী ছেড়ে যাওয়া সবকটি ট্রেনের একই অবস্থা। তবে সবকটি ট্রেনই নির্দিষ্ট সময়ের পরে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তারপরও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হাসিমুখেই সব মেনে নিচ্ছেন যাত্রীরা।
চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেসের ছাদে উঠে বসেছেন ৫-৬ জন যুবক। তাদের একজন বিল্লাল হোসেন জানান, তিনি রাজধানীর একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে পারেননি। মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করবেন, তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনের ছাদে উঠছেন।
সোমবার পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী সুন্দরবন, একতা, ধূমকেতু, ব্রহ্মপুত্র, নীলসাগর, দ্রুতযান আন্তঃনগর ট্রেনগুলো ২৫ মিনিট থেকে পৌনে ২ ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর ছেড়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, ওই অঞ্চলের ট্রেনগুলোর অধিকাংশই একটি রেক দিয়ে চালানো হয়। ফলে একটি ট্রেন কিছুটা বিলম্ব হলে পরের ট্রেনটিও বিলম্বে ছাড়তে হয়। তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্বাভাবিক গতির চেয়ে কিছুটা কমগতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত যাত্রী ভ্রমণ করছে, তাছাড়া বৃষ্টিতো রয়েছেই। এটাকে সিডিউল বিপর্যয় বলা যায় না।
দ্রুতযান এক্সপ্রেসের যাত্রী আমিনুল ইসলাম তার পরিবারের ৪ সদস্য নিয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। বললেন, ট্রেনটি দেড় ঘণ্টা বিলম্বে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছবে। তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী জলিল উদ্দিন বলেন, ট্রেনটি সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা এখন সাড়ে ৮টা বাজে। মাইকিং করে বলা হচ্ছে ৯টায় আসবে। তার সঙ্গে থাকা বড় ভাই নাজিম উদ্দিন জানান, রেলপথে বিশেষ করে ঈদের সময় ১ থেকে আড়াই ঘণ্টা ট্রেনে বিলম্ব কোনো বিষয় নয়। নিরাপদে পৌঁছতে পারলেই হল। ১-২ ঘণ্টা সময় অপেক্ষা কিছুই না। সড়কপথে এক একটি যাত্রীবাহী বাস ৫-৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে।
চট্টগ্রামগামী সুর্বণা এক্সপ্রেস ৩০ মিনিট বিলম্বে কমলাপুর স্টেশন ছেড়েছে। মহানগর গোধুলী এক্সপ্রেসের যাত্রী আতিক রহমান জানান, স্ত্রী-সন্তান আর মাকে নিয়ে চট্টগ্রাম যাবেন। ট্রেনটি ২০-২৫ মিনিট দেরিতে ছাড়বে। টিকিট কেটেছেন শোভন চেয়ার, কিন্তু গতবারের অভিজ্ঞতায় বললেন, সিটে বসতে পারলেও মাথার ওপর লোকজন দাঁড়িয়ে থাকেন। টয়লেট করাও সম্ভব হয় না।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি আবদুল মজিদ জানান, ছাদে উঠা সম্পূর্ণ নিষেধ, তারপরও লোকজন ছাদ ও ইঞ্জিনে উঠে পড়েন। স্টেশনে ট্রেন ঢুকতেই হুড়হুড় করে শত শত যাত্রী ছাদে উঠে পড়েন। লোকবল স্বল্পতা থাকায় এত মানুষকে ঠেকানো সম্ভব হয়নি। তারপরও তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যাত্রীরা যেন ছাদে না উঠতে পারেন।
বুধ ও বৃহস্পতিবার ভিড় অনেক বেশি হবে বলে জানান ঢাকা রেলওয়ে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যাত্রার দিন কাউন্টার থেকে আসনবিহীন টিকিট দেয়া হচ্ছে। বিনাটিকিটে যাতে স্টেশনে প্রবেশ না করতে পারেন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সতর্কাবস্থায় থাকলেও ঝাঁক বেঁধে লোকজন গেট দিয়ে প্রবেশ করায় কাউকেই ঠেকানো সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কমপক্ষে ১ লাখ যাত্রী রাজধানী ছাড়ছেন।
৮টি টিকিটসহ কালোবাজারি গ্রেফতার : কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন চত্বর থেকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ৮টি টিকিটসহ সজিব হাসান নামে এক কালোবাজারিকে গ্রেফতার করেছে। ঢাকা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাব-ইন্সপেক্টর মো. শহিদুল্লাহ যুগান্তরকে জানান, সোমবার বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জানান, কালোবাজারিরা কোনো অবস্থাতেই স্টেশন এলাকায় প্রবেশ করতে পারছে না। প্রবেশ করলেই আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হতে হবে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫