Skip to content

কূটনীতিকপাড়ায় বিজিবি মোতায়েন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
কূটনীতিকপাড়ার নিরাপত্তায় শনিবার রাত থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের থানা পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি টহল দিতে দেখা গেছে।
বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমদ শনিবার রাতে যুগান্তরকে জানান, গুলশান-বারিধারা এলাকায় সীমিত আকারে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু রাতের বেলায় দুই প্লাটুন বিজিবি আইনশৃংখলা রক্ষায় থানা পুলিশকে সহযোগিতা করবে। দিনের বেলায় বিজিবি থাকবে না। বিজিবি সদস্যরা ওই এলাকায় টহলে থাকবে বলে জানান তিনি।
২৮ সেপ্টেম্বর গুলশানে ইতালীয় নাগরিক সিজারি তাভেল্লা ও ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি খুন হওয়ার পর বিদেশীদের মধ্যে এক ধরনের আতংক দেখা দেয়। ৫ অক্টোবর কূটনীতিকপাড়া সংলগ্ন গুলশান লিংক রোডের বাসায় খুন হন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খান। এ অবস্থায় কূটনীতিকপাড়ার নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দেয়। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দাদের পাশাপাশি গুলশানে মোতায়েন করা হয় বিশেষ প্রশিক্ষিত টিম সোয়াত। শনিবার কূটনীতিক পাড়ায় সিকিউরিটি টহল র‌্যালি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ অবস্থায় শনিবার রাতে বিজিবি মোতায়েন করা হল।
যুক্তরাজ্যের শংকার ভিত্তি দেখছে না পুলিশ : সাইরেন বাজিয়ে ছুটে চলছে প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেল। প্রতিটি মোটরসাইকেলে আইন-শৃংখলা বাহিনীর দু’জন করে সদস্য। পেছনে গাড়িতে বিশেষায়িত সোয়াত টিমের সদস্যরা। সবশেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বহনকারী গাড়ি। শনিবার বিকালে কূটনৈতিক জোন গুলশানের দৃশ্য ছিল এটি। কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তায় গতি আনতে এ যৌথ মহড়ার আয়োজন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। তবে একসঙ্গে এত গাড়ির সাইরেনে অনেকেই আতংকিত হয়ে পড়েন। যৌথ মহড়া শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মারুফ হাসান খান বলেন, ‘বিদেশীদের ওপর হামলায় নতুন করে শংকা প্রকাশ করে ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাফেরায় যুক্তরাজ্য যে সতর্কতা জারি করেছে তার কোনো ভিত্তি নেই।
শনিবার বিকাল ৩টার দিকে গুলশানে কনকর্ড পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে শুরু হয় পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা মহড়া। গুলশান-১ ও ২ নম্বর সার্কেল হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালের সামনে গিয়ে কূটনৈতিক এলাকায় ঢুকে পড়ে নিরাপত্তা র‌্যালিটি। পুরো কূটনৈতিক এলাকা ঘুরে র‌্যালিটি সরাসরি চলে যায় উত্তরায়। সেখানে বেশ কয়েকটি সেক্টর ঘুরে শেষ হয় যৌথ নিরাপত্তা মহড়া। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সোয়াত বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়ন (এপিবিএন) এবং কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত চ্যান্সরি পুলিশ অংশ নেয়।
যৌথ মহড়া শুরু হওয়ার আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মারুফ হাসান খান যুক্তরাজ্যের আশংকার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, শংকার কিছু নেই। পুলিশ কোনো আশংকা দেখছে না। তারপরও আইন-শৃংখলা বাহিনীর সব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। ডিপ্লোম্যাটিক জোনের নিরাপত্তায় দায়িত্বরতদের উৎসাহ ও কাজের গতি আনতে যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। যৌথ মহড়ায় ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম, গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ, ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুনতাসিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের ভেতর সাহস জোগাতে এবং অপরাধীদের আতংকগ্রস্ত করতেই এ যৌথ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার যুক্তরাজ্য এক সতর্কবার্তায় জানায়, বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের বড় ধরনের হুমকি রয়েছে। আর এ হামলাকারীদের টার্গেট হতে পারে পশ্চিমারা। একইসঙ্গে ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাফেরায়ও সতর্কতা জারি করে যুক্তরাজ্য।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫