বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যেভাবে সোমবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে হুঙ্কার ছাড়লেন ও হুঁশিয়ার করে দিয়ে বললেন, ব্যবস্থা নেয়া হবে তা এখন বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেড়োর মতই মনে হচ্ছে। এ জাতীয় হুঙ্কার এর আগেও মন্ত্রীরা দিয়েছেন, বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
সরকারের পছন্দ শ্রমিক নেতা,বাস মালিক সহ বিভিন্ন শ্রেণীর যোগসাজসে এমন এক চক্র গড়ে উঠেছে সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে শুধু যে দেখার কেউ নেই তা নয়, টেলিভিশন টক শো থেকে আরম্ভ করে মিডিয়ায় মুখে যা কিছু বলা হোক যে লাউ সে কদুর মত যাত্রীদের পকেট কাটা হয়ে আসছে, এখনো হবে। অভিযান ও তদারকি সাময়িক মাত্র কারণ বাস চলাচল বন্ধ কিংবা সিটিং সার্ভিস বা বিভিন্ন অপকৌশলে এর আগেও যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হয়েছে।
কারণ ঢাকায় বাস চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ উদ্বেগ রয়েছে সারাদেশে। মহাসড়কে ইজি বাইক বা সিএনজি অটোরিকশা চলছেই, অভিযানও হয়েছে কিন্তু এ থেকে পুলিশের আয় আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজধানীতে বাসে চলাচল করেন এমন যাত্রীরা বলছেন, ঢাকার বাসগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা ধরণের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তারা।
একটি নাগরিক সংগঠন সোমবার এক গণ শুনানিতে বাসযাত্রীদের অনেকে অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি এক অসহনীয় ও নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে এবং যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
এরই মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কয়েকটি বাসের চালককে সাজা দেওয়া হলে তার প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকেরা রাস্তায় এলোপাতাড়িভাবে বাস ফেলে রেখে সারাদিন অবরোধ পালন করেন।
ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় বাস-মিনিবাসের কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা হয় বিবিসি’র সংবাদদাতা কাদির কল্লোলের। তার কাছে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানান সাধারণ মানুষ।
আনোয়ারুল ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় বিভাগে কাজ করেন। তার কাজের জন্য দিনের একটা বড় অংশ বাসে চলাচল করতে প্রতিদিনই তাকে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। সরকার কিলোমিটার প্রতি দশ পয়সা ভাড়া বাড়িয়েছে। কিন্তু ভাড়া নেয়া হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। যেখানে যেতে আগে পাঁচ টাকা লাগতো, সেখানে এখন নেয়া হচ্ছে পনেরো টাকা, তিনি বলেন।
কলেজ শিক্ষার্থী ফরিদা ইয়াসমিন বলছিলেন, বাসের কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারসহ নানান ধরণের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয় যাত্রীদের। বাসের যাত্রীদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।
যাত্রীদের এসব অভিযোগ নিয়ে কয়েকজন বাস চালকের সাথে কথা বললে তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এমন অভিযোগও রয়েছে যে, বেসরকারি বাস মালিক এবং শ্রমিকদের সংগঠনগুলোর নেতারা ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন। ফলে দুর্ঘটনায় মানুষ নিহত হওয়াসহ কোন অন্যায় হলে, তাতে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রেও বাধা আসে।
রোববার দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে এক অভিযানে কয়েকজন বাস চালকের জরিমানা এবং সাজা হলে বেসরকারি বাসের শ্রমিকরা ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় বাস ফেলে অবরোধ তৈরি করেছিল।
তবে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহজাহান খান – যিনি সরকারের একজন মন্ত্রীও – বলেন যে পরিবহন খাতে ‘জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রণ রয়েছে’।
সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বি আরটিএ-র বিরুদ্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়াসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে।
তবে বি আরটিএ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেছেন, সমস্যাগুলো নিরসনের ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদেরও ভূমিকাসহ সকলের সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সাধারণ মানুষের অনেকে বলেছেন, তাদের দুর্ভোগ কমাতে কর্তৃপক্ষের আরও শক্ত অবস্থান নেয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।
