বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: সেই ২০০৪ সালে কবি শামসুর রাহমানের বাসায় গিয়ে কবির ওপর হামলা চালানোর সুযোগ খুঁজেছিল জঙ্গিরা। তারপর অমর একুশে বইমেলায় প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর বর্বর হামলা। এরপর শুরু। তারপর আর থেমে থাকেনি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর হায়েনারা।
গত কয়েক মাসে দেশে ঘটে যাওয়া একের পর এক বিজ্ঞানমনস্ক লেখক, ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার ঘটনা পুরো দেশবাসীকে আতঙ্কিত করেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার না হওয়ায় মুক্তমনা মানুষদের পাশাপাশি হতাশ হয়েছে দেশের সাধারণ বিবেকবান মানুষ। নিরাপত্তার অধিকারে হয়ে উঠেছে চরম উদ্বিগ্ন। এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ৩৮ জন প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবী।
বিবৃতিতে অবিলম্বে লেখক-প্রকাশকদের হত্যার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক ও বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের ৩৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই দাবি জানান।
এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সংবিধান স্বীকৃত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি উল্লেখ করে তারা অবিলম্বে ৫৭ ধারা বাতিলের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমান সময়ে সংগঠিত প্রকাশক ও লেখকদের হত্যা দেশজুড়ে আতংকের সৃষ্টি করেছে। মুক্তবুদ্ধির জাগরণকে রুদ্ধ করতে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠী একের পর এক এ ধরনের হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।’
গত এক বছরে পাঁচজন লেখককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও একটি হত্যাকাণ্ডেরও বিচার না হওয়ায় ‘হত্যাকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন বিবৃতিদাতারা। তারা বলেন, ‘যেসকল অপরাধীদের ধরা হয়েছে তারাও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারো তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এরূপ উদাসীনতা মুক্তবুদ্ধির মানুষদের হতাশ করেছে। সেইসাথে জনগণের নিরাপত্তার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। জনমনে হতাশা ও আতংকের সৃষ্টি হচ্ছে।’
বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘দেশকে অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ধারায় এগিয়ে নিতে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপরই বর্তায়। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে খুনিদের আইনের আওতায় আনার বদলে লেখকদেরকে সংযত হবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে খুনিদের চেয়েও বেশি অপরাধ লেখালেখি করা।’
তারা বলেন, ‘আমরা এ অবস্থাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। সরকার ও তার গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার দায়ভার জনগণ মেনে নিতে পারে না।’ প্রতিটি লেখক-প্রকাশকদের হত্যার সাথে জড়িত দোষীদের দ্রুত খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় এনে জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সংবিধান স্বীকৃত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী উল্লেখ করে বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের কালাকানুন থাকতে পারে না। তাই অবিলম্বে ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে।’
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভাষা সংগ্রামী ও লেখক আহমেদ রফিক, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সাংবাদিক-সংস্কৃতি সংগঠক কামাল লোহানী, অধ্যাপক যতীন সরকার, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক ড. শফিউদ্দিন আহমেদ, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, লায়লা হাসান, বেগম মুশতারী শফি, ড. অনুপম সেন, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক আনু মুহম্মদ, সাংবাদিক আবুল মোমেন, শিল্পী অধ্যাপক আবুল বারাক আলভী, সাংবাদিক আবেদ খান, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী সুজেয় শ্যাম, প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ শীশ ও মোনায়েম সরকার। বাংলামেইল২৪ডটকম
