বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: মাটি থেকে ১০০ ফুট উঁচুতে কবরস্থান! শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। শুধু কবরস্থানই নয়, সেখান থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহও মিলেছে। দু-চারটে নয়, একেবারে ১৩১টি। চিনের জিগুই প্রদেশের মোপিং শহরে এমনই কবরস্থানের সন্ধান দিল দ্য পিপ্লস ডেলি সংবাদপত্র। এই সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে, মোপিংয়ে মাটি থেকে ১০০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের চূড়ায় ঝুলন্ত মৃতদেহের সারি পাওয়া গিয়েছে। তারপর তদন্ত করে জানা গিয়েছে, এটিই চিনের বহু পুরানো কবরস্থান। পুরাতত্ত্ববিদরা গবেষণা করে জানিয়েছেন, মোপিংয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে যে মৃতদেহগুলি পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি প্রায় ১২০০ বছর আগে তুং বংশের সময়কার মানুষের দেহ। তুং বংশের আমলে এই পাহাড়ের চূড়ায় সুরঙ্গের মধ্যে অথবা কাঠ দিয়ে গুহার মধ্যে কবরস্থান তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়ে যাঁরা মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের ওই কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়েছিল। তারপর প্রাকৃতিক কারণে গুহাটি নষ্ট হয়ে যায় এবং মৃতদেহগুলি বেরিয়ে আসে বলে পুরাতত্ত্ববিদ্দের প্রাথমিক অনুমান। তবে তুং আমলে কেবল ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছিল? এমন প্রশ্নও উঠছে। এর উত্তর হিসাবে মনে করা হচ্ছে, সকলের পক্ষে অত উঁচুতে গিয়ে কবর দেওয়া সম্ভব ছিল না। তারপর সম্পূর্ণভাবে এই পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে কবর দেওয়ার রীতি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যাঁরা ১৩১টি মৃতদেহ ওই কবরস্থানে সমাধিস্থ করেছিলেন, তাঁরা কীভাবে ১০০ ফুট পাহাড়ের উপরে উঠলেন, তার উত্তর মেলেনি। যেন পুরোটাই রহস্যাবৃত। তবে যাই হোক, দীর্ঘদিনের পুরানো মৃতদেহ এবং কবরস্থানের সন্ধান পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে জিগুই সরকার। এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতেও উদ্যোগী হয়েছে। মোপিং নগরের উপ-প্রধান জাও চেংগেঙ্গ জানিয়েছেন, পাহাড়ের চূড়ায় এই কবরস্থানটিকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার। শীঘ্রই পুরাকালের এই কবরস্থানকে সংরক্ষিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হবে এবং পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তাই ওই পাহাড় চত্বরে নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। শীঘ্রই পুরো এলাকা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হবে। তবে মৃতদেহগুলি ইতিমধ্যে পচে গিয়েছে। তাই ওগুলি রাখা সম্ভব নয়। দক্ষিণ সাগরে ওই মৃতদেহগুলির শেষকৃত্য করা হবে।
