Skip to content

এলিট মোবাইলের প্রতারণার ফাঁদে গ্রাহকরা

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা : এলিট মোবাইল ফোন সেটের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। কষ্টের টাকা গচ্ছা যাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলিট মোবাইল সেট ব্যবহারকারীরা। পার্কিং এর কাজ শেষ না হলেও ক্রেতাদের শর্ট কোডের আশ্বাস দিচ্ছে মোবাইল সেট কোম্পানিটি। অভিযোগ উঠেছে নিম্নমানের মাদারবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলোতে। আর সে কারণেই এত ভোগান্তি।

রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা মাহমুদা আক্তার এলিট মোবাইলের ইভো এক্সওয়ান অ্যান্ড্রয়েড হ্যান্ড সেটটি দুই মাস ব্যবহার করা আগেই মাদার বোর্ড নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমি এলিট মোবাইলের ইভো এক্সওয়ান সেটটি কিনে দুই মাসও ব্যবহার করতে পারিনি। প্রথমে তারা এক বছরের মধ্যে সেট নষ্ট হলে পুরোপুরি চেঞ্জ করে দেয়ার কথা বলেছিলো। কিন্তু নষ্ট হওয়ার পর তাদের কাস্টমার কেয়ারে নিয়ে গেলে বলে, এইটার মাদার বোর্ড একেবারে বাতিল হয়ে গেছে। এইটা আর কিছু করা যাবে না।

মাহমুদা যখন তাদের ক্ষতিপূরণের কথা বলেন তখন এলিটের কর্মকর্তা বলেন, কম দাম দিয়ে চায়না এন্ড্রয়েড কিনেছেন। চাইনিজ জিনিষতো নষ্ট হতেই পারে। এটা ঠিক করা সম্ভব না। আর এই সেট আমাদের স্টকে নাই যে আপনাকে নতুন দিতে পারবো। আপনার কপাল খারাপ। যা যাওয়ার তা গেছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আনিস আহমেদ এলিট কোম্পানির দেয়া শর্ট কোড ১৬৩৫৫৫ নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও কোনো ফল পাননি।

বলেন, মোবাইল কেনার সময় বলেছিলো তাদের শর্ট কোড দিয়ে নাকি যে কোনো সময় সাহায্য পাবো। কিন্তু ১৬৩৫৫৫ নম্বরে একাধিকবার কল করেও ফল পাইনি। পরে কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করলে জানতে পারি যে মাত্র দুটি মোবাইল কোম্পানির সাথে চুক্তি আছে। বাকিদের সাথে তাদের তাদের কোনো চুক্তি নেই। আমি গ্রামীণফোন ব্যবহার করি।

তাদের গ্রামীণফোনের সাথে চুক্তি নাই। কিন্তু কেনার সময় আমাকে কিন্তু এসব তথ্য গোপণ করা হয়েছে।

যারা গ্রামীণফোন, টেলিটকসহ অন্যান্য সিম ব্যবহার করেন তারা এলিট এর শর্টকোড থেকে সহায়তা পাবেন না।

শর্টকোডের এই প্রতারণার কথা স্বীকার করেন খোদ এলিট মোবাইলের প্রশাসন প্রধান কাজী আরিফুল হক।

দেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল কোম্পাণি গ্রামীণফোন, টেলিটক, এয়ারটেলের সাথে পার্কিং চুক্তি না থাকায় এসব কোম্পানির সিম ব্যবহারকারীরা আমাদের শর্টকোড ব্যবহার করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন এলিটের এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দু’একটি মোবাইল কোম্পানির সাথে পার্কিং চুক্তি করেই শর্ট কোড ঘোষণা করা কতোটা যৌক্তিক সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কাজী আরিফুল হক।

অন্যদিকে এলিট মোবাইল কিনে ফেঁসে গেছেন মিরপুর ১০ নম্বরের ব্যবসায়ী হোসেন ইসলাম। পেশায় একজন মুদি দোকানদার। এলিট মোবাইলের বিক্রয় কর্মীর কাছ থেকে জানতে পারেন যে, এলিট মোবাইল ইভো-এনএক্সওয়ান কিনলে সাথে আর একটি মোবাইল ফ্রি পাওয়া যাবে। তাই কিনেও ফেললেন আগস্ট মাসে। কিন্তু এক মাস যেতে না যেতেই ক্যামেরা বিকল। অন্তত দুই দিন চার্জ থাকার কথা থাকলেও চার পাঁচ ঘন্টার বেশি চার্জ থাকছে না। আর ফ্রি যে মোবাইলটি পেয়েছেন তার রিঙ্গারে কোনো শব্দ নেই।

হোসেন ইসলাম বলেন, বেচার সময় কতো কথা বলছিলো। বলছিলো মোবাইলে সমস্যা হইলে নাকি কাস্টমার কেয়ারে নিলেই ঠিক হয়ে যাইব। কিন্তু কাস্টমার কেয়ারে যাওয়ার পরে কয় মোবাইলে একটু আকটু সমস্যা হইতেই পারে। কম দামে চাইনিজ ফোন কিনছেন। আবার চান দামি ফোনের সার্ভিস।

এসব বিষয়ে এলিট মোবাইলের মিরপুর শাহ আলী মার্কেটের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের দায়িদ্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, নতুন স্মার্ট ফোন বাজারে আসছে, সমস্যা থাকতেই পারে।

অন্যদিকে কিছুক্ষণ কথা বললেই মোবাইলের ব্যাটারী গরম হয়ে যায় এলিট মোবাইলের।

এতে করে মোবাইল কানে ধরে রাখাই কঠিন বলে জানান গাজীপুরের গ্রাহক নাজির আহমেদ।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, গত রোজার ঈদে এলিট মোবাইল ফোন সেট কিনলাম।

কয়েকদিন ভালোই ছিলো। কিন্তু এক সপ্তাহ না যেতেই দেখি কথা বলার সময় ফোন গরম হয়ে যায়। ২০/২৫ মিনিট কথা বললে এমন গরম হয় যে ফোন কানে ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়ে। আর কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে দুপুরে গিয়ে দেখি বন্ধ। বেশিরভাগ সময় বন্ধই থাকে।

বেশির ভাগ সময় এলিট মোবাইলের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার খোলা থাকলেও বন্ধ থাকে অল্প সময় বলে দাবি করেন এলিট মোবাইলে গাজীপুরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রয়োজনে কিছু সময় বন্ধ থাকে। কিন্তু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলাই থাকে।

তবে মোবাইলের বিষয়ে গ্রাহকদের অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ জন গ্রাহক আমাদের কাছে মোবাইলের সমস্যা নিয়ে আসছে। আমরা সেবা দিচ্ছি। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫