Skip to content

‘কর্তৃত্বপরায়ণ’ হয়ে উঠছে হাসিনার সরকার

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥

ঢাকা: বাংলাদেশে ২০১৫ সালে মত প্রকাশের স্বাধীনতা তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে। দেশটিতে যেমন ধর্মনিরপক্ষে ব্লগার ও বিদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে, তেমনি আদালত অবমাননার মামলা এবং বিভিন্ন অস্পষ্ট মামলা দায়ের করার মধ্য দিয়ে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।

নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বুধবার তাদের ‘ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০১৬’-তে এসব কথা বলেছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম করা হয় ‘বাংলাদেশ : গভর্নমেন্ট শাটস ডাউন ক্রিটিকস’। বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি গেল বছর কেমন ছিল তা নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

প্রতিবেদনে সংস্থাটি মন্তব্য করেছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ক্রমেই ‘কর্তৃত্বপরায়ণ’ হয়ে উঠছে। যেখানে বিরোধী রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার করে বিভিন্ন মামলা দায়ের করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতন, হত্যা, গুম হওয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটলেও তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ গত বছর কঠিন একটা সময় পার করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়েছে, একজন সাংবাদিকের মত প্রকাশের অধিকার এবং ন্যায্য সমালোচনার পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে ৪৯ জনকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। কারও নাম উল্লেখ না করা হলেও আদালত অবমাননায় ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজার বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের সমালোচনা করার কারণে গণমাধ্যমগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত ও গ্রেফতার করা হচ্ছে সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের। ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সর্বশেষ দু’জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও বন্ধ করে দেয় সরকার।

এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, বাংলাদেশের সংসদে কার্যত কোনো বিরোধী দল নেই। কারণ বড় দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেয়নি। মনে হচ্ছে, সংসদের বাইরেও শেখ হাসিনার সরকার কোনো বিরোধী কণ্ঠকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দিতে চায় না। আর এটা একটা সমস্যা যে, যখন কোনো ব্লগারকে হত্যা করা হয়, তখন সরকার নাগরিকদের আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা বলে।

অ্যাডামস বলেন, গেল বছর অনেক সমস্যা আমরা সামনে এনেছিলাম। এ বছরও সে সমস্যাগুলো রয়ে গেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা খুবই খারাপ অবস্থায়। শ্রমিক ইউনিয়নে মুক্তভাবে অংশ নেয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ থাকলেও কিছু শ্রমিক ইউনিয়ন নিবন্ধন হয়েছে। এ ব্যাপারটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

কট্টরপন্থীদের হাতে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ব্যাপারে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশে অন্তত পাঁচ ব্লগার ও এক প্রকাশককে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সন্ত্রাসী হামলার তালিকায় (হিটলিস্ট) থাকা ব্লগার, লেখক এবং প্রকাশক আত্মগোপনে গেছেন। এক্ষেত্রে হয়তো সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না অথবা নিরাপত্তা অপর্যাপ্ত ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপি জানিয়েছে, বিধিবহির্ভূত গ্রেফতার ও বিচারবহির্ভূত হত্যার আতংকে রয়েছে তারা। বিরোধী রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের আগে রাজপথে সহিংসতা ঠেকাতে সরকার বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করে। এ সময় হাজার হাজার বিরোধী নেতাকর্মীকে আটক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। গেল বছর মার্চে অপহরণের শিকার হন বিএনপির মুখপাত্র সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে তিনি ভারতে উদ্ধার হন এবং ভারত সরকার তাকে অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত করে। তবে জানা যায়, ঢাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন সালাহউদ্দিন। কিন্তু বিএনপির এ নেতার বিষয়টিসহ গুম হওয়া বিরোধী মতের অন্য ব্যক্তিদের ব্যাপারে তদন্তে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সরকার।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫