স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: রাজধানীর রামপুরায় দুই সন্তান হত্যার ঘটনায় মা মাহফুজাকে শুধু একজন মা হিসেবে নয়, রক্তে মাংসে গড়া একজন মানুষ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টোরোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
মা ছাড়াও অন্য কারো যোগসাজশ রয়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছাড়াও অন্য কারো যোগসাজশ রয়েছে কিনা বা অন্য কারো দায় আড়াল করতে নিজে দায় স্বীকার করেছেন কিনা কৌশলে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
ডিএমপির অতিরিক্ত এ কমিশনার বলেন, ‘মাহফুজা নিজে উচ্চ শিক্ষিত। তাদের প্রণয় প্রেম থেকে। নিজে কলেজেও চাকরি করেছেন। পরে ছেড়েছেন। কিন্তু তাদের সাংসারিক আর্থিকভাবে টানাপোড়েন ছিল। এখান থেকে হতাশা কাজ করতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তিনি(মাহফুজা) পাগল নন। তবে তিনি যে মানসিক রোগাক্রান্ত থাকতে পারেন তা সাইকোলজিস্টদের কথা উঠে এসেছে। নইলে নিজের দুই সন্তানের মৃত্যুর পর দায় স্বীকারের বিষয়টি কঠিন সিদ্ধান্তের ব্যাপার।’
‘তবে তার জড়িত থাকার বিষয়ে মনস্তাত্বিক ব্যাখ্যা রয়েছে। আমরা সেটা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করছি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত একটি কারণই উঠে এসেছে তিনি পড়াশুনার সন্তানদের ক্যারিয়ার দুশ্চিন্তায় খুন করেছেন’ বলেন মনিরুল ইসলাম। পারিপার্শ্বিক সব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তদন্ত চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বনশ্রীর ৪ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্লাটে দুই ভাই-বোন ভিকারুন-নিসা-নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিদ্ধেশ্বরী শাখার মনিং শিফটের সি গ্রুপের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান অরণি (১৪) ও হলি ক্রিসেন্ট ইন্টান্যাশনাল স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী আলভি আমানের (৬) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। প্রথমে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর কথা বলা হলেও লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে খুনের আলামত পাওয়া যায়। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মা স্বীকার করেন ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে তিনি নিজের দুই সন্তানকে খুন করেছেন। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মা মাহফুজা ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
