স্পোর্টস ডেস্ক ॥
ঢাকা: জয় দিয়ে বিশ্বকাপ লড়াই শুরু করেছে বাংলাদেশ। সুপার-১০ নিশ্চিত করতে এবার দ্বিতীয় বাধা পার হতে হবে টাইগারদের। আর সেই লক্ষ্যে শুক্রবার রাতে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ধর্মশালায় শুরু হবে তাদের এই ব্যাট বলের যুদ্ধ। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, মাছরাঙা টেলিভিশন ও গাজী টিভি।
অবশ্য এ যুদ্ধের আগে একটা ধাক্কা পেলো বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের শেষে পেসার তাসকিন আহমেদ ও স্পিনার আরাফাত সানির বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আম্পায়াররা। বাংলাদেশ দল এতে অবাক হয়েছে। কোচ হাথুরুসিংহে আইসিসি’র এমন আচারণ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন।
মুস্তাফিজ চোট পাওয়ায় বাংলাদেশের বোলিংয়ে বড় শক্তি এখন তাসকিন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয় পেতে তার বড় অবদান ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে সন্দেহ করলো ভারতীয় ও অস্ট্রেলীয় আম্পায়াররা। তাসকিনের বল তারা আগেও দেখেছেন। তখন কোনো সন্দেহ হয়নি। বিশ্বকাপ শুরুর পর হঠাৎ সন্দেহ প্রকাশ করায় তাদের আচারণই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
বাংলাদেশের সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে সরব। দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনও ক্ষিপ্ত। সুপার টেন পর্বে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া যে গ্রুপ আছে সেই গ্রুপে বাংলাদেশের যাওয়ার সম্ভাবনা। তাই অনেকে তিন মোড়লের ক্রিকেট বিশ্বে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন।
বাছাই পর্বে বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় বাধার নাম ছিল নেদারল্যান্ডস। সেই বাধা টাইগাররা অতিক্রম করেছে তামিম ইকবাল ও তাসকিন আহমেদের কাঁধে চড়ে। তাই বলে বাছাই পর্বের এই গ্রুপে থাকা বাকি দলগুলোকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। আইরিশদের হারিয়ে সেটা ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছে ওমান।
‘এ’ গ্রুপে শক্তিশালী আয়ারল্যান্ডসকে দুই উইকেটে হারায় ওমান। হিসাব করলে ছোট দল হওয়ায় ওমানের এই জয়ে কিঞ্চিত সুবিধা হয়েছে বাংলাদেশেরই। আগের ম্যাচে ওমানের কাছে হেরে তেঁতে আছে আইরিশরা। হারলেই পত্রপাঠ বিদায় ইউরোপের এই দলটির। অন্যদিকে জিতলেই মূল পর্বের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
টি২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচটা বাংলাদেশ খেলেছিল স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায়। যে কারণে বাংলাদেশের আবহাওয়ার মতোই মনে হয়েছে কিছুটা। ধর্মশালায় দিনে গরম ও রাতে কনকনে ঠান্ডা। শুক্রবার ম্যাচটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। তাই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের চেয়ে কনকনে ঠান্ডার বিপক্ষেও লড়াই করতে হবে সাকিব-মাশরাফিদের। সুতরাং বলা যায় আইরিশ শক্তির পাশাপাশি কনকনে ঠান্ডাকেও জয় করতে হবে বাংলাদেশ দলকে।
টি২০তে দুই দলের প্রথম সাক্ষাতেই বাংলাদেশকে হারিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। ২০০৯ টি২০ বিশ্বকাপে আইরিশরা জিতেছিল ৬ উইকেটে। ব্যাট হাতে ১৬ বলে ৩৩ করার পর বল হাতে দুটি উইকেট নিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। শেষ পর্যন্ত সেদিন দলকে জেতাতে পারেননি নড়াইল এক্সপ্রেস। তবে দুই দলের পরের তিন টি২০ ম্যাচের সিরিজে জিতেছিল বাংলাদেশই। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ড সফরে বেলফাস্টে তিন ম্যাচের সিরিজে মুশফিকুর রহিমের দল জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে।
তবে এই ব্যবধান দেখে বোঝার উপায় নেই, সিরিজটি আসলে কতটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ছিল। এই ফলাফল বলছে না, শেষ দুটি ম্যাচে আইসিসির সহযোগী দেশটিকে হারাতে কতটা বেগ পেতে হয়েছে টেস্ট খেলুড়ে দেশ বাংলাদেশকে। সেদিন একটু এদিক-সেদিক হলে সিরিজের ফল আইরিশদের পক্ষে চলে যেতে পারতো। শেষ পর্যান্ত এই ম্যাচের ফলাফল কি হয় তাই দেখার অপেক্ষায়।
