Skip to content

ইজতেমা বাংলাদেশে আয়োজন জাতির পিতার অবদান

স্টাফ রিপোর্টার ॥

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব ইজতেমার ভেন্যু নির্ধারণের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে তা আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মঙ্গলবার (২২ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা খুব কম সময়ই ক্ষমতায় থেকেছেন। এই স্বল্প সময় তিনি দেশ থেকে মদ-জুয়াসহ সকল গর্হিত ও ইসলামবিরোধী বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করে গেছেন। ইসলাম প্রচার ও প্রসারে কাজ করে গেছেন তিনি। তার কল্যাণেই বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা একজন সত্যিকারের মুসলমান ছিলেন। ইসলামের কল্যাণে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পাশাপাশি সকল ধর্মের মানুষ যেন এদেশে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সে ব্যবস্থা করেন। তিনি এদেশের দরিদ্র, ভুখা-নাঙ্গা মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পরে বাংলাদেশে ১৯টি ক্যু হয়েছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় জাতির পিতার আদর্শে ইসলামকে সমুন্নত করতে সচেষ্ট হয়। আমরা মুসলমানদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচলন ঘটিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদ আমাদের জাতীয় মসজিদ। এ মসজিদের উন্নয়নে আমরা প্রকল্প নেই। সৌন্দয্য বর্ধন, অ্যাভিনিউ নির্মাণ করি। শুধু তাই নয়, বায়তুল মোকাররম মসজিদে যেন পাঁচ হাজার নারী এক সঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন, সে ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, হজের সময় যেন মুসল্লিদের কোনো কষ্ট না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগে প্লেন ভাড়া করতে হতো। এখন বিমানের মাধ্যমে আমরা নিজেরাই হাজিদের সৌদি আরব যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারছি।

শেখ হাসিনা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে বঙ্গবন্ধু গুরুত্ব দিয়েছেন। সেজন্য তিনি বোর্ড তৈরি করে গেছেন। ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া শিক্ষায় উন্নয়ন হয় না। সেটা শিশুকাল থেকে দিতে হয়। তিনি এ শিক্ষা প্রসারে ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। আমরাও তার পথ অনুসরন করছি। ক্ষমতায় আসার পর এক হাজারেরও বেশি মাদ্রাসায় একাডেমিক ভবন নির্মাণ করে দিয়েছি। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য ৪১ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছি।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতার আদর্শে পরিচালিত আমাদের সরকার দেশ থেকে দারিদ্র্য বিতাড়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ব্যাপক হারে গৃহহীনদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছি। ইসলাম ধর্ম শিক্ষা দেয়, প্রয়োজনে নিজের খাবার দরিদ্রকে দিতে হবে। এ শিক্ষা থেকেই আমরা দেশকে আরো সামনে বাড়াতে কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ জঙ্গিদের দেশে পরিণত হয়। ৭১ সালে পাকিস্তান যেভাবে হত্যা চালিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় তারাও হত্যা চালিয়েছে।

এ সময় তিনি ওলামায়ে কেরামদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি দেশে যাতে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া না দেয়, সে জন্য কাজ করে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে অনেকেই বলে থাকেন, ইসলাম ধর্ম সন্ত্রাসীদের ধর্ম। আমি উচ্চস্বরে বলেছি, জঙ্গির কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্ম কখনোই জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে জনগণ আমাদের ভোট দেয়। আমরা ক্ষমতায় আসি। সূচনালগ্ন থেকেই আমরা মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে একটি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন ডিজিটাল যুগ। আমরা ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে অনুরোধ করেছিলাম। সে অনুযায়ী কোরান শরীফকে ডিজিটাল করে দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫