বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: তিন বছরের বেশি সময় আগে প্রকাশিত হয়েছিল ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, ৩৮ মাসে এসেও চূড়ান্ত হয়নি নিয়োগ! বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৬ মাস পর মৌখিক পরীক্ষায় বসেন ৩৫তম বিসিএসের প্রার্থীরা। আর বিজ্ঞপ্তির প্রায় এক বছর পরও ৩৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সূচি ঘোষণাই হয়নি। একমাস ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে ৩৭তম বিসিএস।
সরকারি চাকরির সবচেয়ে বড় পদে প্রবেশের জন্য বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় ভুগছেন লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থী। অপচয় হচ্ছে সময় ও মেধার।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর আবেদন প্রক্রিয়া, প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশ শেষে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করতে বছরের পর বছর কালক্ষেপণের জালে আটকা পড়েন চাকরি প্রার্থীরা।
চাকরি প্রার্থীরা বলছেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই-তিন বছর বেশি সময় লেগে যায়। পড়াশোনা শেষে চাকরির আবেদনের পরও সরকারি চাকরির দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়।
সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামোতে ঊর্ধ্বগতির পরিবর্তনের ফলে চাপ বাড়ার মধ্যে নিয়োগকারী সংস্থা সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) বলছে, তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আনার চেষ্টা করছে।
দু’বার ফল, নিয়োগ হয়নি এখনও
বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজার ৫২ পদে নিয়োগের জন্য ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এতে আবেদন করেন দুই লাখ ২১ হাজার ৫৭৫ জন। ২০১৪ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ ৯৫ জন।
কোটা জটিলতায় দুই দফায় প্রকাশ করা হয় ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল। ওই বছরের মার্চ-এপ্রিলে লিখিত পরীক্ষা শেষে ডিসেম্বরে ফল প্রকাশ করা হয়, যাতে ৪৬ হাজার ৫৩০ জন অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন ৯ হাজার ৮২২ জন। ২০১৫ সালের জুন মাসে মৌখিক পরীক্ষা শেষে ২৯ আগস্ট চূড়ান্ত ফলাফলে ছয় হাজার ৫৮৪ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্যে পদ স্বল্পতায় দুই হাজার ১৫৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে পিএসসি।
পদ শূন্য থাকলেও সে অনুযায়ী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়নি এবং ক্যাডার পদে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলন করে আসছিলেন নন-ক্যাডার প্রার্থীরা। কিন্তু সুপারিশকৃত ক্যাডার পদের প্রার্থীরাও এখনও নিয়োগ পাননি।
আর গত বছরের ১৫ অক্টোবর নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দিতে দরখাস্ত আহ্বান করে পিএসসি। ইতোমধ্যে ১৯৬ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছে কমিশন।
নিয়ম অনুযায়ী, পিএসসি সুপারিশ করার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন শেষে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট না আসায় নিয়োগ হয়নি। তবে কবে প্রতিবেদন আসবে তাও জানা যায়নি।
ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য আন্দোলন করছেন নন-ক্যাডার পদের প্রার্থীরা। আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ক নুর ইসলাম নুর বলেন, এই বিসিএস নিয়ে আদালতে শুনানি হবে আগামী মাসে।
৩৫তম বিসিএসের প্রিলির এক বছর
এক হাজার ৮০৩ জন প্রার্থী নিতে ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। বিসিএস বিধিমালা সংশোধনের পর নতুন নিয়ম ও সিলেবাসে ২০০ নম্বরে দুই ঘণ্টার প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেওয়া হয় গত বছরের ৬ মার্চ। আগে ১০০ নম্বরে এক ঘণ্টায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। বিধিমালা সংশোধনে কেটে যায় কয়েক মাস।
সর্বোচ্চ দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন প্রার্থী নিয়ে গত বছরের ৬ মার্চ ৩৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক মাসের মাথায় ৮ এপ্রিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি, যাতে উত্তীর্ণ হন ২০ হাজার ৩৯১ জন। তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন।
গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়, শেষ হয় ১০ অক্টোবর। গত ১৩ জানুয়ারি ৩৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি, যাতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ হাজার ৮৮ জন। ৩১ জানুয়ারি থেকে ৩ মার্চ প্রথম দফায় ও ৬ মার্চ থেকে দ্বিতীয় দফায় মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে চূড়ান্ত ফল।
৩৬তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষার সূচির অপেক্ষা
গত বছরের ৩১ মে ৩৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি, বিভিন্ন ক্যাডারে ২১৮০ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা।
গত ৮ জানুয়ারি ২ লাখ ১১ হাজার ৩২৬ জন পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন। এক মাস পর ১০ ফেব্রুয়ারি প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করে পিএসসি, এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৩ হাজার ৮৩০ জন।
প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষার তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে পিএসসি চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ জানিয়েছিলেন, শিগগিরই তারিখ জানানো হবে।
৩৭তম বিসিএসে আসন কম
বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, আগামী ৩১ মার্চ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে আগামী ২ মে পর্যন্ত।
আগমী জুলাই মাসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছে পিএসসি।
অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরেদের বেতন বৃদ্ধির ফলে চাকরি প্রার্থীরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে আবেদনের চাপ বাড়বে। ৩৭তম বিসিএসে ১২২৬ জনকে নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পদ কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকরি প্রার্থীরা।
কী বলে পিএসসি?
বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকমিশন চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ।
পিএসসি চেয়ারম্যান বাংলানিউজকে বলেন, বিসিএসের চাকরির পরীক্ষা দ্রুত করার জন্য কমিশন চেষ্টা করে যাচ্ছে, আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে কী সে সব উদ্যোগ- তা জানাননি চেয়ারম্যান। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
