স্টাফ রিপোর্টার ॥
চট্টগ্রাম : সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখার দাবিতে জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে। হরতালে বন্দরনগরীতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন নিরাপত্তার বাহীনির সদস্যরা।
সোমবার ভোর ৬টা থেকে হরতাল শুরুর পর নগরীর কোথাও অপ্রিতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে হরতালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা ও নগরীতে ৮ প্লাটুন বিজিবি এবং আড়াই হাজার পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
বিজিবির দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক (অপারেশন) লে.কর্ণেল এ কে এম নাসির উদ্দিন একরাম বাংলামেইলকে বলেন, ‘হরতালে নাশকতা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের চাহিদা মোতাবেক চট্টগ্রাম নগরীতে ৬ প্লাটুন বিজিব মোতায়ন করা হয়েছে। এছাড়া আগে থেকেই ফটিকছড়িতে ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন রয়েছে। সব মিলিয়ে নগরীসহ পুরো চট্টগ্রামে বুধবার ভোর ৬টা থেকে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনে আছে।’
এছাড়া হরতালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগরী কমপক্ষে ৮০টি পয়েন্টে প্রায় দেড় হাজার ও জেলায় এক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভোর ৫টা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা মাঠে নেমেছেন।
সোমবার সকালে সরজমিনে নগরীর ব্যাস্ততম এলাকা নিউমার্কেট, দেওয়ানহাট, টাইগার পাশ, ওয়াসা মোড়, জিইসি মোড়, দুই নাম্বার গেইট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে হরতালে গণপরিবহন চলাচল অপেক্ষাকৃত কম হলেও দাপট দেখাচ্ছে রিকশা।
স্বাভাবিক রয়েছে বিমান ও ট্রেন চলাচল। তবে দূরপাল্লার যান ও ব্যাক্তিগত গাড়ির চলাচল কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে। তবে নগরীর কোথাও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মাঠে নামার খবর পাওয়া যায়নি।
দেশের ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের দোকান-পাট খোলা রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন বিপনী বিতান, মার্কেটও খোলা রয়েছে। এছাড়া নগরীর মাঝিরঘাট, বাংলাবাজার এলাকায় কর্ণফুলী নদীর ঘাট এবং বিভিন্ন গুদামে ট্রাকে পণ্য বোঝাই চলছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে পণ্য উঠানামার কাজও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর সদস্য ও মুখপাত্র জাফর আলম।
সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ‘বাদ দেওয়ার চক্রান্তের’ প্রতিবাদে রোববার (২৭ মার্চ) বিকেলে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপিতে এ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীর অনেক মুসলিম দেশেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রয়েছে। জনগণের পক্ষ থেকে এমন কোনো দাবি ওঠেনি যে, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করতে হবে। সরকার যদি সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ‘বাদ দেওয়ার উদ্যোগ’ গ্রহণ করে, তাহলে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তা কখনো মেনে নেবে না’।
অ্যাম্বুলেন্স, মরদেহবাহী গাড়ি, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে জানান জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল।
