স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে আইটি বিভাগের প্রকল্প পরামর্শক ফিলিপিন্সের নাগরিক এডিসন যভেল্লানোস’র নাম গোপন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চলতি বছরের ৬ই জানুয়ারি ফিলিপাইনের ইন্দ্রা কোম্পানি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, ‘শুরু করছি একটি বেদনাদায়ক নোট দিয়ে, দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক খবর এই যে সহকর্মী এডিসন যভেল্লানোস ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’
এডিসনের মৃত্যুর খবর আসার এক মাস পর ৪ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ লোপাটের ঘটনা ঘটে। ফিলিপাইনের যেসব ব্যাংকে টাকা সরিয়ে নেয়া হয়েছে ওইসব ব্যাংকে হিসাব খোলা হয় ২০১৫ সালের মে মাসে। ফলে ব্যাংকে হিসাব খোলা, ডিসেম্বরে এডিসনের মৃত্যু, জানুয়ারিতে ইন্দ্রার বার্তা এবং এর পরেই রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার সঙ্গে এডিসনের মৃত্যু নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
ইমেইল বার্তায় আরও দাবি করা হয়, এডিসন বাইসাইকেলে করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যখন ব্যায়াম করছিলেন তখন হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়। তার স্থানে স্থলাভিষিক্ত করা হয় মি. স্টেসি লাওকে। যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পরবর্তী কর্মকাণ্ডে যোগাযোগের একমাত্র ব্যক্তি। ইন্দ্রার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের সিনিয়র কনসালট্যান্ট রিজ্জিয়া জন মেরি সি. জামোরা প্রেরিত ই-বার্তাটিকে অনেক বেশি গোপনীয় বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে ইমেইল এবং বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি গোপন করা হয়েছে। এসব বিষয় তদন্ত কার্যক্রমে সিআইডির কাছে গোপন রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সিআইডিকে দেয়া তথ্য ও ই-মেইলে গরমিল দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিভাগ শক্তিশালীকরণে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ডাটা ওয়্যারহাউজ স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োগ পাওয়া ইন্দ্রা’র ফিলিপিনো তিন নাগরিকের মধ্যে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এডিসন যভেল্লানোস।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ইন্দ্রা সিস্টেমস আমাদেরকে জানুয়ারি মাসে জানিয়েছিল এডিসন যভেল্লানোস এর মারা যাওয়ার খবর। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে কাজ করলেও তা না জানানোর কারণ জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি সাহা।
ফিলিপাইন্সের ওই নাগরিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করলেও রিজার্ভ চুরির পর বিষয়টি গোপন রেখে সিআইডিকে জানানো হয় ২০০৯ সালের পর থেকে ফিলিপিনো কোন আইটি সংস্থা বা ব্যক্তি কাজ করছে না বাংলাদেশ ব্যাংকে।
