স্টাফ রিপোর্টার ॥
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের নজিরবিহীন সমাবেশ ও তাণ্ডবের পর পুলিশ অর্ধশত মামলা করেছে সংগঠনটির বিরুদ্ধে। কিন্তু গ্রেফতার নেই একটিতেও। আজ তিন বছর পরেও (৫ মে ২০১৬) নিশ্চুপ সরকার। অনেকেই সরকার এবং হাফাজতের বর্তমান সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করছে।
এদিকে হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ইসলামে অধর্মীয় কোন দিবস পালনে বিধান না থাকায় এই দিনটিতে তারা দোয়ার আয়োজন করবে। তাদের দাবি করা নিহতদের জন্যে আন্দোলনে যাওয়ার কোন চিন্তা ভাবনা করছে না বলেও জানা যায়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারের সাথে এক প্রকার অলিখিত সমঝোয় গিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।
৫ মের অভিযানে আড়াই থেকে তিন হাজার লোক ‘শহীদ’ হয়েছে বলে সে সময় হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু গত তিন বছরেও কথিত ‘শহীদদের’ নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এই দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণও দিতে পারেনি তারা। আর সে কারনেই তারাও এখন নিশ্চুপ ।
অপরদিকে গত ১৪ জানুয়ারি ব্যক্তিগত জীবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধর্ম পালনের বিষয়টি উল্লেখ করে আহমদ শফী বলেন, ‘তিনি আস্তিক, আমরাও আস্তিক। আমরা ও তাঁদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।আমাদের আন্দোলন নাস্তিকদের বিরুদ্ধে।’
উল্লেখ, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণজাগরণ মঞ্চ সৃষ্টির পর কথিত নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে হঠাৎ জেগে ওঠে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ওই বছরের ৫ মে ঢাকার ছয়টি প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচি শেষে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে সরকারের উচ্চমহলে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছিল তারা।
৫ মে মতিঝিলে অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। ওই সময়ের সংঘর্ষ ও সহিংসতায় রাজধানীসহ সারা দেশে মোট ২৭ জন নিহত ও দেড় হাজারের মতো মানুষ আহত হন।পরে ওই দিন মধ্যরাতে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানের মুখে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন হেফাজতের কর্মীরা।
