স্টাফ রিপোর্টার ॥
ঢাকা: ২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠা লাভ করে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক)। কিন্তু নিরাপদ, দূষণমুক্ত, যানজটমুক্ত ও সবুজ সিটি হিসেবে এখনও গড়ে ওঠেনি গাজীপুর।
নগরীটিতে শুক্রবার সাধারণত জটলা থাকে না। কিন্তু আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তায় যেতে নানা জটলায় পড়তে হয়। এছাড়া সড়কের দু’পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় নানা ধরনের যানবাহন। ফলে অসহনীয় যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের।
ভয়াবহ যানজটের কবল থেকে রক্ষার্থে গাজীপুর করিডোর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ১০টি ইউলুপ নির্মাণ করা হবে। তবে ইউলুপগুলো নির্মাণে গাসিক কর্তৃপক্ষ বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব করায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঢাকা নগরী ও আশেপাশের এলাকার দুর্বিষহ যানজট সর্বজনবিদিত। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে স্ট্রাটেজিক প্ল্যানের আওতায় স্বল্পমেয়াদী, মধ্যবর্তী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের করা হচ্ছে, যেন ঢাকা ও আশেপাশের মানুষ যানজট থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
এ লক্ষ্যে ঢাকার তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে গাজীপুর করিডোর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে ২২টি ইউলুপ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকার তেজগাঁও সাতরাস্তা মোড় থেকে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত ১২টি ইউলুপ নির্মাণ করবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আর গাজীপুর করিডোরের তেলিপাড়া থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ১০টি ইউলুপ নির্মাণ করবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক)।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে একই ধরনের প্রকল্পের জন্য প্রতিটি ইউলুপের নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে গড়ে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আর ইউলুপপ্রতি ২ কোটি ১০ লাখ টাকার আবদার করেছে গাসিক। ফলে প্রতিটি ইউলুপ নির্মাণে ঢাকার চেয়ে গাজীপুরে ২৩ লাখ টাকা করে বেশি ব্যয় করতে হবে।
২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ১০টি ইউলুপ নির্মাণ করা হবে। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল মেয়াদে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করবে গাসিক। রাস্তার বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচল সহজতর করা, ট্রাফিক জ্যাম ২৫ শতাংশ কমিয়ে ভ্রমণ সময় ও ব্যয় কমানো হবে। পাশাপাশি গাজীপুর এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বাড়ানো হবে। ১০টি ইউলুপ নির্মাণ করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় ইউটিলিটিও স্থানান্তর করা হবে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ঢাকার মধ্যে যানজট না থাকলেও আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। যানজট নিরসনে খুব দ্রুত সময়ের মধেই আমরা ১০টি ইউলুপ নির্মাণ করবো। এ কাজে আমাদের প্রয়োজন ২৩ দশমিক ৪৮ বিঘা জমি। জমির নিশ্চয়তা পেলেই ইউলুপ নির্মাণ কাজ শুরু হবে’।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় ইউলুপ নির্মাণে বেশি ব্যয়ের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা নির্দেশনা পেয়েছি। সুতরাং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মতো ব্যয় ধরেই ইউলুপ নির্মাণ করবো’।
এদিকে ‘গাজীপুর করিডোরের আব্দুল্লাহপুর থেকে তেলিপাড়া পর্যন্ত ১০টি ইউলুপ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির সার্ভে সম্পন্ন হয়ে গেছে। প্রকল্পের প্রস্তাব ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ব্যয় ৫০ কোটি টাকা কম হওয়ায় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নিজ ক্ষমতাবলে অনুমোদন দিতে পারবেন। এ লক্ষ্যে ২০১৬-১৭ বাজেটে ১৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের ডিপিপি’তে ১০টি ইউলুপের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণের হিসাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ইউলুপের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদফতর ২৩ দশমিক ৪৮ বিঘা দেবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। গাসিক রাজস্ব আয়কারী সংস্থা। তাই প্রকল্প ব্যয়ের ৩০ শতাংশ অর্থ গাসিক নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে।
তবে প্রকল্পের ব্যয় প্রস্তাবে অসামাঞ্জস্য দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে একই ধরনের প্রকল্পের জন্য প্রতিটি ইউলুপে গড়ে নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আর একই প্রকল্পে গাসিক এলাকায় গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে গাসিককে জবাব দিতে হবে।
