Skip to content

নজরদারিতে আসছে নির্মাণাধীন ভবন, গলির মোড়

স্টাফ রিপোর্টার ॥
রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার তদন্তের প্রয়োজনে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নতুন করে কিছু স্পট কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্মাণাধীন ভবন, বিভিন্ন আবাসিক এলাকার গলির মোড়, যুব সংঘগুলো, শপিং সেন্টারের ফুড কোর্ট এবং ফাস্ট ফুড শপ প্রভৃতি।

ঢাকা মেট্রোপলিট্রন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক ভাবেই এ ধরনের স্পটে আড্ডাবাজি হয়। স্বাভাবিক আলাপ বা আড্ডা কোনো সমস্যা নয়, কিন্তু গোয়েন্দাদের নজর থাকবে, এ ধরনের আড্ডায় তরুনদের আড্ডার বিষয়বস্তু নিয়ে। বিশেষ করে উত্তরায় আদনান হত্যাকান্ডের পর ‘কিশোর গ্যাং’ বিষয়টির অস্তিত্ব পাওয়ার পর। এছাড়া সম্প্রতি মাথাছাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গিদেরও মূল টার্গেট থাকে তরুণরা। তাই, এ ধরনের স্পটকে নজরদারিতে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সিভিল টহলের পাশাপাশি জোরদার করা হবে সিসিটিভি কাভারেজ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার মিরাশ উদ্দিন বলেন, আমরা দেখেছি বন্ধু-বান্ধব মিলে বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দেয়। এটাকে কেন্দ্র করে তেমন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় না। কিন্তু সম্প্রতি উত্তরায় কিশোর বয়সীদের গ্যাং চর্চার বিষয়টি প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে। অন্যান্য আবাসিক এলাকাও তাই নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাধারণত রাজধানীর বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে জুয়া খেলা হয়। এসব জুয়ার আসর বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম ঘটানোর জন্য উস্কানিদাতা হিসেবে পুলিশ সনাক্ত করেছে। পুলিশ ধারণা করছে, এসব জুয়া খেলা বা আড্ডার স্তল হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে এবং অপরাধের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এমনিতেই মাঝে মাঝে খবর পাওয়া যায়, কোনো পরিত্যক্ত ভবন বা নির্মাণাধীন ভবনে কোনো কিশোরী শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। এ ধরনের স্থানে প্রায়ই যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এবার এসব স্থান পুলিশের কড়া নজরদারিতে আনা হচ্ছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক এলাকার গলির মোড়, শপিং সেন্টারের ফুড কোর্ট এবং ফাস্ট ফুড শপগুলোতে কিশোর-তরুণদের আড্ডা জমে। এসব আড্ডা সময় কাটানো বা অন্য কোনো গঠনমূলক কাজে ব্যয় হলে সমস্যা নাই, কিন্তু কোনো ধরনের পরিকল্পনা করার জন্য ব্যবহার হলে তা শনাক্ত এবং প্রতিরোধের পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এর পাশাপাশি নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকার কিশোরদের সামাজিক সংগঠনগুলোতেও।

জানা গেছে, এরই মধ্যে স্থানীয় থানার মাধ্যমে এলাকার টিনেজদের বিষয়ে প্রাথমিক মন্তব্য গ্রহণ করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে গোয়েন্দারা জানতে চাইছে রাজধানীর কোন এলাকার কিশোরদের মধ্যে সংঘবদ্ধ হয়ে কার্যক্রম করার প্রবণতা রয়েছে। এক্ষেত্রে যুব সংঘগুলোও নজরদারির আওতায় আসছে।

গোয়েন্দাদের হাতে থাকা তথ্য অনুসারে, রাজধানীর যুব সংঘগুলো বিভিন্ন সময়ে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকলেও প্রায় প্রতিটি সংঘের পেছনে এলাকার সিনিয়রদের ভূমিকা থাকে। এসব ‘সিনিয়র’দের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও খতিয়ে দেখতে চাইছে গোয়েন্দারা। কারণ সৃজনশীল মনোভাব নিয়ে এসব সংঘে যোগ হওয়া কিশোরদের এসব সিনিয়রদের দ্বারা বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে তরুণ যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ যৌবন দীপ্ত যুব সমাজ হচ্ছে তারুণ্যের অহংকার। তারা যদি এগিয়ে না আসে তাহলে দেশের কাঙিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু তরুণদের মধ্যে এই উদ্দীপনা সৃষ্টির মাধ্যমেও ধ্বংসাত্মক কর্মের দিকে এগিয়ে নিয়ে নিতে পারে চতুর এবং অসৎ পথনির্দেশকরা। তাই এসব তরুনদের বিপথগামীতার হাত থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের নজরদারির বিকল্প নেই।

এদিকে রাজধানীতে বিভিন্ন পর্যায়ের নজরদারি বাড়ানোর ফলে নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তা হলো, আগে রাজপথে প্রায়ই সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের হাতে সর্বস্ব খোয়াতে হতো সাধারণ মানুষকে। সম্প্রতি রাজধানীর রাজপথগুলোতে সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং, পুলিশের জোরালো তৎপরতা এবং নারী ও পুরুষ গোয়েন্দা দল মাঠে নামানোর ফলে ছিনতাইকারীরা রাজপথ ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয় এখন রাজধানীর বিভিন্ন উন্নত এলাকাগুলোর গলিপথ। কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে ছিনতাইকারীদের উপদ্রব বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে এলাকার বখাটে ছেলেদেরও ইন্ধন থাকতে পারে বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।

তাই কিশোরদের টার্গেট করে পরিচালিত কার্যক্রমে ছিনতাইকারী এবং তাদের ইন্ধন ও আশ্রয়দাতাদেরও খুঁজে বের করার পরিকল্পনা নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫