Skip to content

পূনর্বাসন না করেই উচ্ছেদ, হকাররা যাবে কোথায়?

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। নগরীর ফুটপাত এখন হকার মুক্ত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই হকাররা যাবে কোথায়? তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ তাবৎ সংসারের ব্যায়ভার বহন করবে করবে কে? এ প্রশ্ন হকারদের। পুনর্সবাসন নীতিমালা না করা পর্যন্ত হকারদের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে হকার্স সমন্বয় পরিষদ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। উচ্ছেদ অভিযানের পর বেশকিছু এলাকায় সন্ধ্যার আগে হকার দেখা না গেলেও গুলিস্তানে এখনো অনেক হকার ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে বসার চেষ্টা করে। তবে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সেচ্ছাসেবকরা তাদের দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আবারও সরিয়ে দেয়। ওই সব হকাররা ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে বসছেন, যাতে করে উচ্ছেদ করতে আসলে দ্রুত পণ্য নিয়ে সরে পড়া যায়। তাই সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সেচ্ছাসেবকরা ওই সব এলাকায় থাকলে ফুটপাথগুলো দখলমুক্ত থাকছে, না হলে হকার ও অচ্ছায়ী দোকানদাররা ফুটপাথ দখল করছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসি  মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, ফুটপাথ দখলে যত বড় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রভাশালী ব্যক্তি হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। জনগণের পথচলা নির্বিঘ্ন করতেই আমাদের এ প্রচেষ্টা। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অবস্থান পরিষ্কার, স্পষ্ট ও কঠোর। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের বিষয়ে কাউকে একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কারও সঙ্গে আপস করবে না। রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাথের মালিক নগরবাসী। এতে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাজধানীতে যানজটের অনেক কারণের মধ্যে হকার অন্যতম। ওই সব এলাকা জমজমাট থাকে। এখান থেকে সারাদেশের মানুষজন যাতায়াত করে। এখানে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা হয়। যারা বলছে এখানে সন্ধ্যার পর বেচাকেনা হয় না, তারা মিথ্যা বলছে।  ফুটপাথ জনগণের সম্পদ। এটি উদ্ধারে উচ্চ আদালত এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করছি।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, দৈনিক বাংলাসহ আশপাশের এলাকায় দিনের বেলা হকারের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন। যারা বসে তারা সবাই ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে বসে। বাণিজ্যিক এলাকা দিলকুশার ভেতরে হকার ও ফুটপাথে অস্থায়ী দোকানগুলো নেই। কিছু চা, পান ও সিগারেটের দোকানদার ভ্রাম্যমাণভাবে তাদের ব্যবসা করে। এতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন পথচারীরা। গুলিস্তানে উচ্ছেদ করার পরও কিছু হকার বার বার ফিরে আসছে। পল্টন এলাকায় ফুটপাথে বেশকিছু হকার ও অস্থায়ী দোকান লক্ষ্য করা যায়। তবে অনুমতি থাকায় সন্ধ্যার পর মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, পল্টন এলাকায় হকারদের ফুটপাথ দখল করে বসতে দেখা যায়।

ফুটপাথ অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে ৫২ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। চলতি মাসের ২২ তারিখ সকাল থেকে এসব স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। সবার গায়ে ইউনিফর্ম ও হাতে একটি প্লাস্টিকের লাঠি  দেওয়া হয়েছে। এসব স্বেচ্ছাসেবক মতিঝিল, গুলিস্তান, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, বায়তুল মোকাররম ও দিলকুশাসহ আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। বিভিন্ন সময় সুযোগ বুঝে ফুটপাথে বসে পড়ছে হকাররা। তাই ফুটপাথ পাহারায় সার্বক্ষণিক পুলিশ ফোর্স না পেয়ে এবার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। ওই সব এলাকায় ১০ জন করে মোট ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। সম্পত্তি বিভাগের চারজন সার্ভেয়ার চারটি টিমে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে দু’জন করে চেইনম্যান সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে নির্দেশ অমান্য করে আগের মতো যত্রতত্র ফুটপাথ দখল করে হকারদের পসরা সাজিয়ে বসার উপায় নেই বর্তমানে। এতে পথচারীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। তবে দুশ্চিস্তায় ভুগছে হকাররা। কারণ, এতে করে তাদের রুটি-রুজি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবার সংস্থার চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সিগমা হুদা বলেন, ফুটপাত হকারমুক্ত করা নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন হচ্ছে এই লোকগুলো যুগ যুগ ধরে করে খা”িছল তারা এখন যাবে কোথায়? তাদের পূনর্বাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করাটা কি সরকারেরই দায়িত্ব নয়।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫