স্টাফ রিপোর্টার ॥
হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি না সরানোর সকল চেষ্টাই শেষ হয়েছে ট্যানারি মালিকদের। হাইকোর্ট সুপ্রিমকোর্ট ঘোরাও শেষ। তবুও ট্যানারি ছাড়তে হচ্ছে মালিকদের। সর্বশেষ গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্নে হাইকোর্টের আদেশের পর হাজারিবাগ ছাড়ার পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্যানারি মালিকরা। ট্যানারিগুলো বন্ধ না হলে গ্যাস,পানি,বিদ্যুতের লাইন কেটে দেবার যে আদেশ উচ্চ আদালত দিয়েছেন তারপর তারা এখন হাজারিবাগ ছেড়ে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছেন।
একজন ট্যানারি মালিক বলছেন, তারা আপিল করতে চান তবে সরকার আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিলে তাদের হাজারিবাগ থেকে উঠে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।
তারা বলছেন, এর ফলে বেশ কিছু কারখানা সাময়িকভাবে হলেও বন্ধ হয়ে যাবে এবং শ্রমিকদের কাজ হারানো আশঙ্কা রয়েছে।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ লেদার এ্যসোসিয়েসশনের সাবেক সভাপতি টিপু সুলতান বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই বিষয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল সেটাই বহাল আছে। এখন এর পরিপ্রেক্ষিতে এখন আমরা হয়তো এসোসিয়েশন থেকে চেষ্টা করবো যে রিভিউ করতে পারি কিনা। আর যদি রিভিউ করা না যায় তাহলে আমরা এপ্রিলের ৬ তারিখের আগেই হাজারিবাগ থেকে চলে যাব।
তার মানে কি আপনারা মেনেই নিয়েছেন যে আপনাদের উঠে যেতে হবে? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন কোর্টের বিপরিতে আমরাতো কিছু করতে পারবো না। তবে আমরা চেষ্টা করছি যে, সরকারকে ম্যানেজ করার জন্য যে, সরকার যাতে মনে করে যে আমাদের যে কারখানাগুলো আছে আমার সবাই যেন ওখানে গিয়ে পরিপূর্ণ চামরা শিল্প নগরি হিসেবে উৎপাদন করতে পারি সেই বিষয়ে সরকারকে অনুরোধ করছি সরকার যাতে এই সুবিধাটুকু আমাদের দেন।
কবে নাগাদ গ্যাস,পানি, বিদ্যুতের লাইন কেটে দিতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় এই সপ্তাহে না হলেও আগামী সপ্তাহে অবশ্যই এটা কেটে দিবে।
এই কারণে কি অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে? জবাবে তিনি বলেন, হ্যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ, সাভারের জায়গাটা এখনো পরিপূর্ণভাবে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং অনেকেই ব্যাংকে থেকে টাকা তুলতে পারেনি সেক্ষেত্রে তারা যদি সরকারের কাছ থেকে টাকা না পায় তবে অনেকগুলো কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, তাদের পক্ষে সম্ভব না যে হাজারিবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর করা। সেক্ষেত্রে অনেকেরই আশঙ্কা আছে তারা তাদের ট্যানারি করাখানা বন্ধ করে দিবে।
সেক্ষেত্রে ওই সকল কারখানায়তো অনেক শ্রমিক কাজ করেন, তাদেরইবা কি হবে? জবাবে তিনি বলেন, সেখানেতো একটা বিপর্যয় হবেই।
এই ব্যপারটা সামাল দেওয়া হবে কিভাবে? উত্তরে তিনি বলেন, আমি জানি না এটা কিভাবে সামালা দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে মালিকরা কি কোন আলোচনা করেছেন? জবাবে তিনি বলেন, হ্যা। আমি যতটুকু জানি মালিক ও তাদের শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা করেছে যে, এই বিষয়টা কিভাবে সামাল দেওয়া যায়। আমরা সরকারকে বলছি যে, আমাদের মিনিমাম কিছু অর্থ দেওয়া হোক। যাতে অন্তত কারখানাটা বাঁচিয়ে রাখতে পারি এবং স্থানান্তর করতে পারি। যদিও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন উত্তর পাইনি।
