বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
দেশের বিভিন্ন স্থানে নিশ্চিহ্নের ঝুঁকিতে আছে মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মারক। এগুলোর মতোই ঝুঁকির মুখে পড়েছে একাত্তরের বধ্যভূমিও। দখল হয়ে যাচ্ছে একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের গণহত্যা চালানোর এসব জায়গাগুলো।
এসব বধ্যভূমিগুলোর সঠিক সংখ্যা জানা না থাকাকেই দখলের কারণ মনে করছেন গবেষকেরা। এদিকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলছেন, এ পর্যন্ত চিহ্নিত একশ ৭১টি বধ্যভূমি আগামী জুন থেকে একই নকশায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ লাগোয়া আমবাগান বছর দশেক আগেও এখানে সংরক্ষিত ছিলো দুটি কূপ। স্বাধীনতার পর কূপ দু’টি ভর্তি ছিলো নরকঙ্কালে। কলেজের আশেপাশের নীচু এলাকায় খুলি-অসিস্থ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেছেন অনেকেই।
মিরপুর-১২ নম্বরের মুসলিম বাজার একাত্তরের বধ্যভূমি। এখানকার নুরি মসজিদে বসে হত্যা পরিকল্পনা করত জামায়াত নেতা ও বিহারিরা। স্বাধীনতার পর এর ভেতরে মেলে লাশের কূপ। মসজিদটিতে এখন মুক্তিযোদ্ধা মাদ্রাসা।
গবেষকরা বলছেন, শুরু থেকেই একাত্তরের গণহত্যাকে বাঙালি-বিহারি সংঘাত বলে প্রচারণা চালায় পাকিস্তানিরা। এসব বধ্যভূমি হারিয়ে গেলে গণহত্যার কোনো প্রামাণ থাকবে না বলেও শঙ্কা তাদের।
দেশে বধ্যভূমির প্রকৃত সংখ্যা আজও অজানা। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে হিসেবে চারশ ২২ হলেও মন্ত্রণালয় বলছে এ সংখ্যা ১৭১। পাশাপাশি চলতি বছরই একই নকশায় সব বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হ”েছ বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
এসব বধ্যভূমি দখল হলে এই মাটিতে মিশে থাকা শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে অজানাই থেকে যাবে বলেও মনে করেন গবেষকেরা। -তথ্যসূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টিভি
