বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে শীতল সম্পর্ক থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নয়ন হতে শুরু করে। তবে শুধু উন্নয়ন নয়, তা অনেক দৃঢ় বলেই মনে হচ্ছিল। সম্প্রতি শক্তিশালী দেশ দুটো পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলেই মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা ‘মোআব বা মাদার অব অল বম্বস’ নিয়ে বিশ্ব জুড়ে আলোচনা চলছে। অপারমাণবিক এ বোমা দিয়ে তারা আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এতে ৫০ জনের বেশি আইএস যোদ্ধা মারাও গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার কাছে এর থেকেও বিধ্বংসী আর শক্তিশালী অপারমাণবিক বোমা রাখা আছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা দুটি পরমাণু বোমা এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিভৎস চিত্র। এর ধারেকাছে নেই আধুনিকতম অ-পারমাণবিক বোমা।
কিন্তু প্রাচীন পরমাণু বোমা আর আধুনিকতম অ-পারমাণবিক বোমার ফারাকটা আসলে কতটুকু। তা দেখলে সত্যিই চমকে উঠতে হয়।
নিউক ম্যাপ জানিয়েছে, হিরোশিমায় মোআবের মতো বোমা পড়লে ১০ হাজারের মতো মানুষ মারা যেতো। আর আহত হতো ১৫ হাজার মানুষ। কিন্তু পরমাণু বোমা ‘লিটল বয়’ এর আঘাতে সেখানে অন্তত ৯০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। কারো কারো মতে, এ সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার। আর নাগাসাকির ‘ফ্যাট ম্যান’ এর বদলে মোআব ফেললে মারা যেত মাত্র ৭ হাজার মানুষ। কিন্তু পারমাণবিক বোমার কারণে নাগাসাকিতে প্রাণ হারায ৩৯- ৮০ হাজার মানুষ।
ফলে আফগানিস্তানে মোআব হামলা মনে করিয়ে দিচ্ছে কতটা বিপদে আছে পৃথিবীর মানুষ। পৃথিবীতে ৭০০ বছর আগে প্রথম বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। ১২২১ সালে চীনের জিন সাম্রাজ্যের সেনা প্রথম বোমা হামলা চালিয়েছিল। ত্রয়োদশ শতকে চীনই প্রথম বোমা তৈরি করেছিল। শিল্প বিপ্লব আর উপনিবেশবাদের কারণে ক্ষমতার কেন্দ্র হরো ইউরোপ। আর উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে চরে আসলো যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই অণু, পরমাণু সব ধরনের মরণাস্ত্র তৈরি শুরু করে তারা। তখন কে জানতো সেই পারমাণবিক বিশ্লেষণ কয়েক দশকের মধ্যেই মানুষকে এনে ফেলবে এমন ভয়াবহ সময়ের মধ্যে।
এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে পরিমাণ বোমা মজুত আছে তার বেশির ভাগই হিরোশিমা-নাগাসাকির বোমার তুলনায় কিছুই না। কিন্তু এর মধ্যেও পৃথিবী ধ্বংস করে দেওয়ার মতো বোমা আছে। তারপরও থেমে নেই পরমাণু বোমা তৈরি। পারমাণবিক, অপারমাণবিক সব ধরনের বোমার বানানো চলছে। শক্তিশালী, তারচেয়ে আরো শক্তিশালী বোমা বানাচ্ছে বিভিন্ন দেশ। সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট
