স্টাফ রিপোর্টার ॥
উপজেলা ভূমি অফিস মানুষের অতি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। এখানেই জমির মালিকানার ‘সনদ’Ñ নামজারী ও জমাভাগের মত কার্যক্রম চলে। দীর্ঘদিন এই অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার মানুষের নানা দুঃখ-কষ্ট, অভিযোগ, আর্তনাদ-যন্ত্রণার কান্নার ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে-বাতাসে প্রকম্পিত হয়ে আসছিল। এ নিয়ে ইতোপূর্বে সাপ্তাহিক বাংলাভূমি পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এই নেতিবাচকতার মঞ্চে হঠাৎ ইতিবাচক পরিবেশের স্বাপ্নীল আলোর সম্ভাবনাময় ঝলক দৃষ্টি কেড়েছে সাপ্তাহিক বাংলাভূমি কর্তৃপক্ষের। বদলে যাওয়া দৃশ্যপটে এই আমূল পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: রাশেদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।
এ অফিসে কর্মরত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানাযায়, সম্প্রতি দায়িত্ব নেয়া নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: রাশেদুর রহমানের সততা যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার কারণেই এ আমুল পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি সেবাপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া সহজতর করেছেন। জনভোগান্তি কমানোর জন্য প্রয়োজনে নিজ কক্ষের বাইরে গিয়ে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেন এ কারণে সকল শ্রেণীর মানুষ সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেন খুব সহজেই।
এ অফিসের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত শক্তিশালী বিধায় যে কোন অপরাধের চিত্র সহজেই তিনি নিজ কক্ষে বসে সনাক্ত করতে পারে। কমেছে অফিস আঙ্গিনায় মধ্যস্বত্বভোগীর দৌড়াত্ম। সেবাপ্রার্থীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে গুরুত্বের সাথে সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করেন তিনি। সাক্ষাৎকার প্রার্থীদের সন্তুষ্টির হারও আগের তোলনায় এখন অনেক বেশি।
ভূমি অফিসের মূল ফটকে ঝুলিয়ে রাখা সিটিজেন চার্টার সিটে তালিকার অতিরিক্ত কোন ফি আদায় হচ্ছে কী না তা খতিয়ে দেখার জন্য বাংলাভূমি পত্রিকার প্রতিবেদক অত্র দপ্তরের যথাক্রমে নথি নং ৩৫৪/১৬-১৭, আবেদনকারী সাং হাড়িনাল মো: মুজিরুন নেছা, নথি নং ৩৫৫/১৬-১৭, আবেদনকারী সাং কালনী মো: আইরিন আক্তার ইলা। নথি নং ১১৯৫/১৬-১৭, আবেদনকারী মোসা: জহুরা খাতুন সাং লক্ষীপুরা। নথি নং ১০৩২/১৬-১৭,আবেদনকারী কাজী সাবিদ হোসেন সাং দিঘিরচালা। তাঁদের সাথে কথা হয়। তাঁরা জানান, এখন মাত্র এক হাজার একশ পঞ্চাশ টাকায় ডিসিআর ফি জমা দিয়ে ভূমির মালিকান স্বত্ব বুঝে পান। নামজারি জমাভাগের জন্য গুনতে হচ্ছে না অতিরিক্ত টাকা।
তবে দীর্ঘদিনের অভ্যাসের দাসে তুষ্ট কতিপয় কর্মচারী নতুন এ পরিবর্তনের ছোঁয়া মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে অনুমেয়। তাছাড়া এ দপ্তরের অধিনস্থ স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস গুলো এখনো পূর্বের দাচে চলছে।
অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: রাশেদুর রহমান- অফিসে যোগদান করেই বহিরাগত দালাল ও দলিল জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন। এতে করে দালালরা এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। কক্ষের সামনে এখন আর দালালদের দেখা যাচ্ছে না। অফিসের বিভিন্ন জায়গায় ঝুলছে জনগণকে সচেতন করার মত ফেস্টুন প্ল্যাকার্ড ও সেবা গ্রহণকারীদের সেবা নেয়ার জন্য বিভিন্ন আহ্বান মূলক বক্তব্য। দালালমুক্ত ভূমি প্রশাসনের পোস্টার এবং সিটিজেন চার্টার। প্রতিদিনের কাজের তালিকা টানিয়ে দিতে তিনি তৈরী করেছেন উপজেলা ভূমি অফিসের নোটিশ বোর্ড। একটি রেজিস্টারও (অভিযোগ-মতামত) খুলেছেন তিনি। মোট কথা ভূমি প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে আন্তরিক ভাবে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

এ বিষয়ে এসিল্যান্ডের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ভূমি খুব জটিল জায়গা। যুগ যুগ ধরে চলে আসা ভূমি অফিসের জটিলতা, দুর্নীতি একদিনে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের আমি প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। জনগণকে আমার কাছে আসতে উদ্বুদ্ধ করছি। দালালদের প্রবেশ বন্ধ করেছি। কোন ধরনের অবৈধ লেনদেন করতে সেবা গ্রহিতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে সাবধান করে যাচ্ছি। প্রকৃত সেবাটুকু দিতে চাই। সেবাগ্রহিতাদের সেবাটুকু নিতে আমাকে সহযোগিতা করতে হবে তবেই চিরতরে মুছে দিতে পারবো ভূমির কান্না।
