বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
‘ভিশন ২০৩০’ ঘিরে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। উপস্থাপনের পর সপ্তাহ না পেরুতেই ভিশন বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে দলটি। খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণার পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। খালেদা জিয়া নিজেও বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। গত কয়েকদিনের তার কার্যক্রম ও বক্তব্য-ভাষণ থেকে এমনটাই লক্ষ্য করা গেছে।
সপ্তাহ না পেরুতেই ভিশন বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ‘ভিশন ২০৩০’ এর আলোকে গত শনিবার ‘বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করেছে দলটি। সেখানে বেশ আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে বক্তব্য রাখেন বেগম জিয়া।
এ বিষয়ে চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইয়ের সদস্য শাইরুল কবির খান বলেন, ‘প্রতিদিনই কোন না কোন প্রোগ্রাম থাকেই। প্রায় প্রতিদিনই ম্যাডাম অফিসে আসেন। দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন। তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন। দলের সাংগঠনিক যেসব কাজকর্ম আছে তা সম্পন্ন করেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ করেন। এসব বিষয়গুলো নিয়ে ম্যাডাম এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করছেন’।
বিএনপির একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, এখন থেকে বিএনপির রাজনীতি চলবে ভিশনের আলোকেই। মাঠ পর্যায়ের নেতারাও বলছেন, চেয়ারপারসনের ভিশন ঘোষণা তাদের নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। এখন কেন্দ্র থেকেযে কোন কর্মসূচি দেয়া হলে বাস্তবায়ন করা জটিল হবে না। নেতা কর্মীরা এতটাই চাঙ্গা হয়েছে যে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করার মতোও মনোবল তৈরি হয়েছে তাদের।
এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, বেগম জিয়া যে ভিশন-২০৩০ নামের যে রুপরেখা দিয়েছেন তা গত ৪০ বছরের মধ্যে কোন রাজনৈতিক দল দিতে পারেনি। এ রুপরেখার মাধ্যমে দেশের জনগণের মধ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাঙ্খার প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, এই রুপরেখার মধ্যে বিশেষ করে দেশের যুবকদেরকে বেশি উৎসাহিত করা হয়েছে। আগামী ৩০ থেকে ১০০ বছরে দেশ কিভাবে চলবে তা এখানে উল্লেখ করা আছে। এক কথায় দল নির্বিশেষে এই ভিশন-২০৩০ গ্রহন করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বেগম জিয়া রুপরেখা প্রকাশ করেছেন এখন সময় শুধু অপেক্ষার কখন বেগম জিয়া আন্দোলনের ডাক দিবেন। আর তাতে দল মত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করবে।
জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান যে ১৯ দফা দিয়েছিলো আর তখন দেশের জনগণ যেভাবে সেটাকে গ্রহণ করেছিলেন এবার বেগম জিয়ার ভিশন-২০৩০ ও দেশের মানুষ ঠিক সেভাবেই গ্রহণ করেছে।
শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া ভিশন-২০৩০ দেশের সবাই গ্রহণ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বেগম জিয়ার যে রুপরেখা দিয়েছেন তা সবাই খুব উৎসাহ নিয়েই গ্রহণ করেছে। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ গ্রহণ না করে জনগণকে ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, এতোদিন বিএনপিসহ সারাদেশের মানুষ অপেক্ষায় ছিলো একটা দিক নির্দেশনার জন্য। বেগম জিয়া সেই দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এতোদিন যেই রুপরেখার জন্য সারাদেশের নেতাকর্মীরা আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে ছিলো সেই রুপরেখা বেগম জিয়া দিয়েছেন। এবার বেগম জিয়ার নেতৃত্বে এই রুপরেখা সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে আবারো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। বেগম জিয়ার ঘোষিত এই রুপরেখা মাইল ফলক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন মহলে এনিয়ে সমালোচনা ঝড় বয়ে গেলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশাজীবী মহল থেকে।
বিএনপিমনা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘোষিত ভিশন-২০৩০ দলটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করবে। এর ফলে দলটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন ধারার রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের যে স্বপ্ন ভিশনে দেখানো হয়েছে তা এখন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়াই মূল লক্ষ্য হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ নামের যে রুপরেখাটি দিয়েছেন তা দলটির জন্য খুবই ইতিবাচক ফল বয়ে আসনে। তবে শুধু ঘোষণা করেই বসে থাকলে চলবে না। এটা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে জনমত গঠনে কাজ করতে হবে।
